পাখি

ক্লান্তিহীন ডেকে যাওয়া দাগি-বসন্তবউরী

 

ছোট ছোট শব্দে বিরামহীন ডাক! কয়েকবার নয়, অসংখ্যবার। যারা এ ডাকটি শুনতে থাকেন তারা বরং শুনতে শুনতে ক্লান্ত হয়ে পড়েন। কিন্তু ডেকে যাওয়া এই পাখিটি কখনো ক্লান্ত হয় না। দূরে থেকে ডাকছে গাছের ডালে বসে, ডাকছে তো ডাকছেই। এই ডাক প্রতিধ্বনিত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে চারপাশে। তবে তার দেহ সবুজ  হওয়ায় পাতার সঙ্গে মিশে যায়। সহজে দেখা যায় না। তবে ডাক শুনে অনুমান করা যায় যে, গাছের এই দিকটা থেকে পাখিটির ডাক শোনা যাচ্ছে। নাম তার দাগি-বসন্তবউরী।

বৈজ্ঞানিক নাম Megalaimalineata। বারবেট প্রজাতির প্রায় সব পাখিই ক্রমাগত ডাকের জন্য সেরা। প্রজনন মৌসুমে সঙ্গীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই এই বিরামহীন ডাকের প্রতিযোগিতা! এই দাগি-বসন্ত আকারে শালিকের চেয়ে বড়। এরা ছোট মাঝারি আকারের বৃক্ষচারী পাখি। এদের রয়েছে শক্ত ও মোটা ঠোঁট এবং তীক্ষ নখ। আকারে এরা ৩৩ সেন্টিমিটার এবং ওজন প্রায় ১৫৫ গ্রাম।

পাতার রঙের মতো এদের শরীরের বেশিরভাগ অংশই সবুজ। বস্তুতপক্ষে ডানা, পেট ও লেজ সবুজ। তবে শরীরে সবুজ ছাড়াও অন্য রংগুলো হলো খয়েরি ও সাদা। হালকা খয়েরি রঙের মাথা, ঘাড়, পিঠ ও বুকে সরু আকৃতির সাদা দাগ। ছেলে এবং মেয়ে পাখির চেহারা অভিন্ন।

দাগি-বসন্ত সব ধরনের বন, খোলা বনভূমি, উদ্যান ও গ্রামে বিচরণ করে। সাধারণত একা, জোড়ায় বা বিচ্ছিন্ন দলে দেখা যায়। গ্রীষ্মকালে এরা এক ডাল থেকে অন্য ডালে অবিরাম ডাকাডাকি করে। খুব জোরে বনের চারদিক প্রতিধ্বনিত করে ডাকতে থাকে ‘কুরুক-কুরুক-কুরুক’।

বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের হিমালয়ের পাদদেশ, নেপাল, ভুটান, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়ায় এ পাখি দেখা যায়। নানান রকমের ফল এবং ফুলের মধু, ইউপোকা, লার্ভা, টিকটিকি, গেছো ব্যাঙ প্রভৃতি এর খাদ্যতালিকায় থাকে।