‘শিল্পীর জনপ্রিয়তা ভিউ দিয়ে নির্ধারণ করা যায় না’

এদেশের সবচেয়ে ব্যস্ততম শিল্পী আঁখি আলমগীর। স্টেজে যার জুড়ি নেই। পাশাপাশি ডিজিটাল মিডিয়ার এই হাওয়ায় ভাসা ইউটিউব ইন্ডাস্ট্রির সাথে সম্পৃক্ত তিনি। সময়ের সাথে সাথে নিজেকে সাফল্যের সাথেই সাজিয়েছেন তিনি। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন নুরুল করিম

 

কেমন আছেন?

ভালো আছি।

এখন কী নিয়ে ব্যস্ত আপনি?

স্টেজ শো নিয়েই এখন ব্যস্ত সময় পার করছি।

অন্যান্য মৌসুমের চেয়ে শীতকালে স্টেজ শোয়ের ব্যস্ততা কতটুকু বাড়ে?

শীতকালে স্টেজ শো একটু বেশি থাকে। আবার বর্ষায় স্টেজ শো একটু কমে। এটা স্বাভাবিক বিষয়। তবে সারাবছরই পারফর্মারদের শো থাকে। স্টেজটা একজন শিল্পীর সবচেয়ে প্রিয় জায়গা। স্টেজ শোতে দর্শকদের যে ভালোবাসা পাওয়া যায় শিল্পী জীবনের সেটিই সবচেয়ে বড় আনন্দ।

নতুন কোনো গান আসছে?

হ্যাঁ। শিগগিরই নতুন গান পাবেন আমার শ্রোতারা। ২/৩ দিন পর কলকাতায় মিউজিক ভিডিওটির শুটিং হবে।

অনেকেই এখন গানের চাইতে মিউজিক ভিডিওকে বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। আপনার মতামত শুনতে চাচ্ছি—

যেহেতু গানকে মানুষের কাছে পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে মিউজিক ভিডিও নির্মাণ করা হয় সেহেতু ভিডিওর মানের ব্যাপারে সচেতন হওয়া দরকার। তার মানে এই নয় যে, গানের মানের দিকে খেয়াল না রেখে বড় বাজেটের মিউজিক ভিডিও নির্মাণ করা হোক! প্রথমে গানের মানের দিকে খেয়াল রাখা উচিত। আমি সবসময় গানকেই প্রাধান্য দিয়ে থাকি। কিন্তু যুগের সাথে তাল মেলাতে মিউজিক ভিডিওর দিকেও নজর দিতে হচ্ছে। এটা সারাবিশ্বেই হচ্ছে। যখন যে মাধ্যম আসে শিল্পীরা সেই মাধ্যমকে ব্যবহার করে গানকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াটা দোষের কিছু নয়।

ইউটিউবের ভিউ গুনে অনেকেই শিল্পীর জনপ্রিয়তা নির্ধারণ করে থাকেন! বিষয়টি কিভাবে দেখছেন?

একটা মিউজিক ভিডিওর মিলিয়ন ভিউ হতেই পারে! তবে ভাইরাল ট্রেন্ডের ওপর ভিত্তি করে কখনো শিল্পীকে মাপা উচিত না। যে গানটির ভিউ হয়েছে সেই গানটির কৃতিত্ব দেওয়া যায়। শিল্পীর জনপ্রিয়তা ভিউ দিয়ে নির্ধারণ করা যায় না।

একটি অনলাইন পোর্টালের সাক্ষাত্কারে আপনি বলেছিলেন, আপনার এখন অভিনয় করার ইচ্ছে আছে। অভিনয়জীবনে শৈশবেই পেয়েছেন জাতীয় পুরস্কার। আবারো কী দেখতে পাবো?

আমি এই কথা কখনো বলিনি! আপনার কাছেই প্রথম শুনলাম। আমি এত বছর সাধনা করে একটি জায়গায় এসে পৌঁছেছি। আমার বাবা একজন বড়মাপের অভিনেতা, তার মেয়ে হিসেবে আমি গর্ব করি। চাইলে আমি নিয়মিত অভিনয় করতে পারতাম। আমি অভিনয় ইচ্ছে করেই করিনি। কিন্তু অভিনয়ের গণ্ডি থেকে বেরিয়ে সঙ্গীতশিল্পী হয়েছি। মানুষ আমাকে সঙ্গীতশিল্পী হিসেবেই চেনেন, এটা আমার জন্য আনন্দের এবং খুবই বড় পাওয়া। কিন্তু এখনো যদি অভিনয় নিয়ে কথা বলতে হয় কষ্ট লাগে। অভিনয় নিয়ে আমি কথাই বলতে চাই না। এই খবরগুলো মিথ্যা।

শ্রোতাদের উদ্দেশ্যে কিছু বলুন —

শ্রোতাদের উদ্দেশ্যে একটি কথাই বলার আছে। তা হলো ফান করতে গিয়ে কোনো মানহীন বিষয়বস্তুকে ভাইরাল করবেন না প্লিজ। আপনাদের ওপরে জাতীয় সংস্কৃতির অনেক বড় দায়িত্ব।