স্পোর্টস রিপোর্টার
বছরের শুরুতে নিউজিল্যান্ড সফর থেকে টেনিস এলবোর ইনজুরি নিয়ে ফিরেছিলেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। কোচ, ফিজিও’র নির্দেশের পরও ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে আবাহনীতে খেলার কারণে পর্যাপ্ত বিশ্রাম পাননি এই পেস বোলিং অলরাউন্ডার। অবশ্য দারুণ ফর্ম নিয়ে বিশ্বকাপে গিয়েছিলেন তিনি। টুর্নামেন্টের মাঝপথে মাথাচাড়া দিয়ে উঠে তার পুরনো পিঠের ব্যথা।
ইনজেকশন দিয়ে বিশ্বকাপে খেলা চালিয়ে গিয়েছেন সাইফউদ্দিন। টুর্নামেন্টে ১৩ উইকেট পাওয়া এই পেসার শ্রীলঙ্কা সফরে যেতে পারছেন না। পিঠের ব্যথার কারণে এই সিরিজে খেলা হচ্ছে না সাইফউদ্দিনের। তিন সপ্তাহের বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে তাকে। বিসিবি প্রধান চিকিত্সক দেবাশীষ চৌধুরী গতকাল জানিয়েছেন, লাম্বার স্পাইন ফ্যাসেট জয়েন্ট পেইন-এ ভুগছেন এই তরুণ ক্রিকেটার। মেরুদণ্ডের অস্থি সন্ধিতে এই ব্যথা। ব্যথা সারিয়ে তুলতে তিন ধরনের চিকিত্সা পদ্ধতি আছে।
বিসিবির চিকিত্সকরা ‘আরএফ অ্যাবলেশন’ নামক পদ্ধতিতে সাইফউদ্দিনের চিকিত্সা করনোর পরিকল্পনা করছেন। যা এই ক্রিকেটারকেও জানানো হয়েছে ইতিমধ্যে। আপাতত বিশ্রাম চলছে, বিশ্রামের পর তার অবস্থান আবার মূল্যায়ন করা হবে।
গত বৃহস্পতিবার জাতীয় দলের অনুশীলনে যোগ দিয়েছিলেন সাইফউদ্দিন। পরদিনই তার পিঠের ব্যথা জেগে উঠায় ছিটকে পড়েন শ্রীলঙ্কা সিরিজ থেকে। গতকাল এই চোট সম্পর্কে দেবাশীষ চৌধুরী বলেছেন, ‘ফ্যাসেট জয়েন্ট পেইন। এটা লাম্বার স্পাইনে। লাম্বার স্পাইন ফ্যাসেট জয়েন্ট পেইন বলা হয়। এটা পেস বোলারদের খুবই কমন। এটার চিকিত্সা তিন ধরনের হতে পারে।’
বিসিবির অভিজ্ঞ এই চিকিত্সকের মতে, প্রথম চিকিত্সা হচ্ছে বায়োমেকানিকসের মাধ্যমে বোলিং অ্যাকশনে টেকনিক্যাল সংশোধন। যা দেশের বাইরে করতে হবে এবং অনেক বড় ও ব্যয়বহুল পরিকল্পনা। তারা সেই পথে হাঁটতেও চান না।
দ্বিতীয় পরিকল্পনা হচ্ছে, আবার ইনজেকশন দেওয়া। বিশ্বকাপে আপত্কালীন হিসেবে এই পদ্ধতিই গ্রহণ করা হয়েছিল। কারণ তখন ব্যথা কমানোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এখন আর এই পদ্ধতি অবলম্বন করতে চান না বিসিবির চিকিত্সকরা। তাছাড়া এমন ইনজেকশনের প্রতিক্রিয়ায় কতদিন সাইফউদ্দিন ব্যথামুক্ত থাকতে পারবেন, তার নিশ্চয়তা নেই।
তৃতীয় চিকিত্সা পদ্ধতি আরএফ অ্যাবলেশন সম্পর্কে দেবাশীষ চৌধুরী গতকাল বলেছেন, ‘আরেকটা পরিকল্পনা হচ্ছে, আরএফ অ্যাবলেশন। এটা খুব টেকনিক্যাল ব্যাপার। ব্যাখ্যা করা কঠিন। আমরা এটা করার চিন্তা করছি। এখানে ঝুঁকি কম হবে। কিন্তু ব্যথা মুক্ত থাকার সময়টা বাড়াবে। ইনজেকশনে যেটা সমস্যা, ক্ষতি হতে পারে, আর ব্যথামুক্ত সময়টা লম্বা নয়। এটা বেশি দিন টিকে না। কিন্তু আরএফ অ্যাবলেশন চিকিত্সাতে ক্ষতি নাই, কিন্তু বেশি দিন কার্যকরী। এটা নিয়েই আমরা ভাবছি। এটা হচ্ছে আপাতত পরিকল্পনা। সাইফউদ্দিনকেও আমরা জানিয়েছি।’
খেলাধুলা ছেড়ে দিলে এই ব্যথা নিয়ে চিন্তার কিছু থাকবে না সাইফউদ্দিনের। দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলবে না। শুধু বোলিং করতে গেলেই মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে। বিসিবির এই চিকিত্সক বলেছেন, ‘ও না খেললে ভালো থাকবে। কারণ এটা অ্যাক্টিভিটি সম্পর্কিত ব্যথা। ওর দৈনন্দিন জীবনে কোনো সমস্যা হবে না। বোলিং করতে গেলেই সমস্যা হবে। কারণ এটা অ্যাকশন সম্পর্কিত।’ আপাতত সর্বোচ্চ বিশ্রাম দিয়ে অবস্থা মূল্যায়নের চেষ্টায় আছেন চিকিত্সকরা। দেবাশীষ চৌধুরী বলেছেন, ‘এখন আমরা একটা লম্বা রিকভারির সময় দিচ্ছি। তিন সপ্তাহ ও পূর্ণ বিশ্রাম নিবে। রিকভারি হবে। এর সঙ্গে রিহ্যাব চলবে। তিন সপ্তাহ পর আবার মূল্যায়ন হবে তার ব্যথা।’