স্পোর্টস ডেস্ক
আলজেরিয়া আফ্রিকান নেশন্স কাপের ফাইনালে সেনেগালকে ১-০ গোলে হারিয়ে ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো আফ্রিকান শ্রেষ্ঠত্বের শিরোপাটি জিতেছে। ম্যাচের শুরুতেই বাগদাদ বোনেদজার একমাত্র গোলে শিরোপার নিষ্পত্তি হয়।
ম্যাচটির আগে দুই দলের র্যাংকিং সেনেগালকে এগিয়ে রাখলেও ইতিহাস কথা বলছিল ফিফা র্যাংকিংয়ে ৬৮তম অবস্থানে থাকা আলজেরিয়ার পক্ষেই। শেষ চারবারের দেখায় তিনবারই জিতেছিল আলজেরিয়া। শেষ জয়টি এসেছিল চলতি আসরের গ্রুপ পর্বেই।
শুক্রবার রাতে কায়রো স্টেডিয়ামে ম্যাচের ৭৯ সেকেন্ডে প্রতি আক্রমণে সেনেগাল রক্ষণে হানা দেয় আলজেরিয়া। বক্সের বাইরে থেকে বোনেদজার প্রয়াস রুখতে পা বাড়িয়ে দেন সেনেগাল ডিফেন্ডার সালিফ সানে। তাতে হিতে বিপরীত হয় সেনেগালের। জোরালো শটটি সানের পায়ে লেগে গোলরক্ষককে টপকে গিয়ে জড়ায় লায়ন্স অফ তেরঙ্গাদের জালে। নেশন্স কাপ ফাইনালের ইতিহাসে দ্রুততম গোলও এটিই।
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে আবারো দুর্ভাগ্য সঙ্গী হয় সেনেগালের। পেনাল্টি পেয়েও ভিএআর পরীক্ষার পর তা বাতিল হয়। এছাড়া পুরো ম্যাচে আলজেরিয়ার জমাট রক্ষণ ভাঙতে পারেননি সাদিও মানেরা। ফলে ১৯৯০ সালের পর আবারও শিরোপা ঘরে তোলে রিয়াদ মাহরেজের দল। জয়ের পর টুইটারে এর প্রতিক্রিয়ায় মাহরেজ লেখেন, ‘এই দলকে নেতৃত্ব দিতে পেরে আমি গর্বিত। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে যারা আমাদেরকে সমর্থন দিয়ে এসেছেন তাদের অসংখ্য ধন্যবাদ। আমরা এখন আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন।’ দলের কোচ জামেল বেলমাদি এই জয়ের কৃতিত্ব ভাগ করে দিলেন খেলোয়াড়দের আর স্টাফদের মাঝে। তিনি বলেন, ‘খেলোয়াড়দের ছাড়া আমি কিছুই না। তারাই দলের মূল। আমি মনে করি, খেলোয়াড়দের দিক-নির্দেশনা দিতে স্টাফরাও বেশ পরিশ্রম করেছে, কিন্তু খেলোয়াড়রা সে নির্দেশনা দারুণভাবে প্রয়োগ করে দেখিয়েছে।’ এদিকে দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে আসা সেনেগাল আবারও স্বপ্নভঙ্গের শিকার। ফাইনালের আগে দলটির তারকা খেলোয়াড় সাদিও মানে জানিয়েছিলেন শিরোপাটির জন্য সদ্য জিতে আসা চ্যাম্পিয়ন্স লিগটাও বিসর্জন দিতে পারতেন তিনি। এত কাছে এসেও শিরোপা অধরা থেকে যাওয়ায় বেদনায় পুড়ছে সেনেগাল।
শেষবার ২০০২ সালে যখন ফাইনালে উঠেছিল দলটি সেবার খেলোয়াড় হিসেবে দলে ছিলেন সেনেগালের বর্তমান কোচ আলিউ সিসে। এবার কোচ হিসেবেও একই ভাগ্য বরণ করলেন তিনি। তবে সিসে মনে করেন আরো ভালো কিছু প্রাপ্য ছিল তার দলের। তিনি বলেন, ‘ফাইনালে ছোট ছোট জিনিসই পার্থক্য গড়ে দেয়। তবে আমরা আরো ভালো কিছুরই যোগ্য ছিলাম। তারা তাদের তৈরি করা সুযোগগুলো কাজে লাগিয়েছিল। অন্যদিকে আমরাও হতাশায় মুষড়ে পরিনি। আমরা সুযোগ তৈরি করেছিলাম কিন্তু গোলের দেখা পাইনি।’ ফিফা র্যাংকিংয়ে ২২তম স্থানে থাকা সেনেগাল এ নিয়ে মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে উঠল। কোচ সিসে আরো ধারাবাহিক হবার তাগিদ দেন দলটিকে। তিনি বলেন, ‘আমাদের ঘাটতিটা কী? ধারাবাহিকতা। শেষবার সেনেগাল এখানে এসেছিল ২০০২ সালে। বড় ম্যাচের অভিজ্ঞতা পেতে এখানে আরো খেলতে হবে আমাদের। ধীরে ধীরে আমরা জয়ের কাছাকাছি যাচ্ছি। দলটা শেষ পাঁচ বছরে দারুণ উন্নতি করছে।’
শেষ দশ আসরের ফলাফল
সাল চ্যাম্পিয়ন রানার্সআপ
২০০০ ক্যামেরুন নাইজেরিয়া
২০০২ ক্যামেরুন সেনেগাল
২০০৪ তিউনিসিয়া মরক্কো
২০০৬ মিসর আইভরি কোস্ট
২০০৮ মিসর ক্যামেরুন
২০২০ মিসর ঘানা
২০১২ জাম্বিয়া আইভরি কোস্ট
২০১৩ নাইজেরিয়া বুরকিনা ফাসো
২০১৫ আইভরি কোস্ট ঘানা
২০১৭ ক্যামেরুন মিসর
২০১৯ আলজেরিয়া সেনেগাল