রহমতগঞ্জকে উড়িয়ে দিয়েছে আরামবাগ

শেখ জামাল হারালো চট্টগ্রাম আবাহনীকে

স্পোর্টস রিপোর্টার

ময়মনসিংহে নিজেদের হোম ভেন্যুতে দুর্বার পারফরম্যান্স করেছে ঢাকার দল আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ। গতকাল বিকালে রফিক উদ্দিন ভূঞা স্টেডিয়ামের মাঠে আরামবাগ ৬-৩ গোলে হারিয়েছে ঢাকার আরেক দল রহমতগঞ্জকে। লড়াই হয়েছে দুই দলের মধ্যে। রহমতগঞ্জ গোল হজম করে গোল করেও ছিল। কিন্তু প্রতিপক্ষের ভেন্যুতে যেন ধরাশায়ী হতেই হলো।

আরামবাগের জয়ের নায়ক কিংবা জয়ের কারিগর যেভাবেই বলা হোক না কেন কালকের খেলায় বিদেশি ফুটবলারদের পায়ের কাজ আমলে নিতেই হচ্ছে কোচ মারুফুল হককে। প্রথম গোল আরিফুর রহমান করলেও যোগান দিয়েছেন নাইজেরিয়ান ম্যাথিউ চিনেডু। গোল শোধ দিয়েছেন রহমতগঞ্জের কঙ্গোর সিউ জুনাপিও। বাড়িয়েছিলেন মিডফিল্ডার সোহেল রানা। প্রথমার্ধেই এই সোহেল রানার গোলে রহমতগঞ্জ এগিয়ে গিয়েছিল ২-১ ব্যবধানে। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধের খেলায় ক্ষীপ্রতা এনে আরামবাগ যেন দুর্বার হয়ে উঠে। চিনেডু, পল এমিল ২, জালাল মিয়া, উজবেক ফুটবলার বাবাখানভ গোল করেন। খেলার শেষ দিকে আরামবাগের সিউ জুনাপিও নিজের দ্বিতীয় গোল করেন।

ঢাকায় শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব ২-০ গোলে চট্টগ্রাম আবাহনীকে হারিয়েছে। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে প্রথমার্ধের দুই গোলেই শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব জয় নিশ্চিত করে। বিরতির পর শেখ জামাল গোলের সুযোগ তৈরির চেয়ে গোল খাব না এমন মানসিকতায় মাঠে নেমেছিল। রেফারির শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত চট্টগ্রাম আবাহনী লড়াই করেছে। প্রচণ্ড গরমে ক্লান্ত ফুটবলাররা একটুও দমে যায়নি। চেষ্টা করলেও লাভ হয়নি। হারতেই হয়েছে।

প্রথমার্ধের মিনিট পাঁচেকের মধ্যে গাম্বিয়ান ফুটবলার ইবুকান্তের গোলে এগিয়ে যায় শেখ জামাল। ৩৭ মিনিটে গাম্বিয়ান আরেক ফরোয়ার্ড সলমোন কিং কানফর্ম চট্টগ্রাম আবাহনীর বক্সের বাইরে থেকে আচমকা শট করে গোল করেন ২-০। জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে কোচ শফিকুল ইসলাম মানিকের দল।

শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব একটা সময় নতুন রূপে ফুটবলে মাঠে এসেই সাড়া ফেলেছিল। ঘরোয়া যেকয়টি ট্রফি ছিল তার সব কয়টি ট্রফি নিয়ে গিয়েছিল শেখ জামাল। এই দলটি নতুন রূপে নাম সংযোজন করে দেশের সব বড় বড় খেলোয়াড় তুলে নেয়। জাতীয় দলের তেরো জন ফুটবলার শেখ জামালে খেলেছে।

শুধু দেশের ফুটবলেই ট্রফি জয় করেনি, সেই সঙ্গে ভারতীয় ফুটবলে সাড়া ফেলে দিয়েছিল। ভারতের আইএফএ শিল্ডে খেলে ইস্ট বেঙ্গল, মোহনবাগানকে হারিয়েছিল। ফাইনাল খেলেছিল শেখ জামাল। এই টুর্নামেন্টে শেখ জামালের খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স দেশের ফুটবলেও আলোড়ন তুলেছিল। একসঙ্গে তেরো চৌদ্দজন ফুটবলার একটি দলে খেলছিল বলে তাদের মধ্যে বোঝাপড়াটাও ছিল বেশ। তার প্রতিফলন ঘটেছিল জাতীয় দলের খেলায়।

টিম ওয়ার্ক ভালো থাকায় জাতীয় দলের পারফরম্যান্স চোখে পড়েছিল। দুইবার পেশাদার লিগের চ্যাম্পিয়ন শেখ জামালের সামেন হ্যাটট্রিক শিরোপার হাতছানি ছিল। হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়নের খেতাব সারাজীবন মামুনুলদের মাথায় মুকুট হয়ে থাকত। সেদিকে না তাকিয়ে অর্থের মোহে সব খেলোয়াড় শেখ জামাল ছেড়ে অন্য দলে চলে গেল। তারপর থেকে শেখ জামাল আর অভিমান করে বড় দল গড়ার পথে যায়নি। মাঝে তরুণ ফুটবলারদের নিয়ে দল গড়লেও এখন প্রিমিয়ার লিগে শেখ জামাল পয়েন্ট টেবিলের মাঝখানে অবস্থান করছে।