ঢাকায় প্রিমিয়ার ফুটবল লিগে বসুন্ধরা কিংস-আবাহনী ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার আগ মুহূর্তে এক সঙ্গে তিনটি লালকার্ড দেখিয়েছেন রেফারি ভুবন মোহন তরফদার। ফয়সাল হোসেন ফাহিমের জোড়া গোলে বসুন্ধরা ২-০ তে আবাহনীর বিপক্ষে এগিয়ে। ম্যাচটা শেষ হওয়ার সময় একটা ফাউলকে কেন্দ্র করে গণ্ডগোল বাধলেও লালকার্ড দেখেন আবাহনীর শাহীন আহমেদ এবং বসুন্ধরা বিংসের সাদ উদ্দিন ও সিনিয়র সোহেল রানা।
রেফারি তিন জনকে লালকার্ড দেখানোর পরও খেলোয়াড়দের মধ্যে কোনো উত্তেজনা ছিল না। রেফারি অবশিষ্ট দুই মিনিট খেলা চালিয়ে শেষ বাঁশি বাজান। খেলোয়াড়রা সবকিছু হাসি মুখে মেনে নিয়ে হাত মিলিয়ে বের হচ্ছিলেন। আবাহনী ও তাদের ডাগ আউট থেকে বেরিয়ে ড্রেসিং রুমের পথে পা বাড়াতেই গন্ডগোল বেঁধে গেল। দুই টেন্ট থেকে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ল। ভিআইপি থেকে চেয়ার ছুড়ে মারা হয় দর্শকের দিকে। পুলিশ বাঁশি বাজিয়ে দর্শক সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। মাঠে তখনও উত্তেজনা।
আবাহনীর দাবি তারা বেরিয়ে যাওয়ার সময় আক্রমণ করে বসুন্ধরা কিংসের লোকজন। দুই দলের ধাক্কাধাক্কির মধ্যেই দেখা গেল আবাহনী ও বসুন্ধরার লোকজনকে। দুই দলের খেলোয়াড় কর্মকর্তারা মারমুখি। আবাহনীর কোচ মারুফুল হক উত্তেজনা থামানোর চেষ্টা করে নিজেই আহত হওয়ার মতো বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে যাচ্ছিলেন।
বসুন্ধরার ডাগ আউটে থাকা দুই তরুণের দিকে আঙ্গুল আবাহনীর। দুই তরুণ নাকি আবাহনীর দিকে গিয়ে মারামারির সুত্রপাত ঘটায়। এদের মধ্যে একজন তামিম। তিনি বলেন, 'আমাদের বসকে গালি দিয়েছে। আমরা কি বসে থাকতে পারি।' আপনাদের বস কে? 'ওয়াসিম স্যার আমাদের বস।'
দুই তরুণকে দেখা গেল তারা বসুন্ধরার ডাগ আউটে গিয়ে খেলোয়াড়দের চেয়ারে বসছেন, নিজ হাতে খেলোয়াড়দের পানি নিয়ে খাচ্ছেন। কিংসের লোকজন দুই তরুণকে সরিয়ে দিচ্ছেন। কিন্তু মাঠ থেকে বের করে দেননি। তামিমের দাবি তিনি বসুন্ধরা কিংসের টিম ম্যানেজম্যান্টে নাই। কিন্তু কীভাবে মাঠে ঢুকে মারামারিতে জড়িয়ে ডাগ আউটে আশ্রয় নিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তিনি অদৃশ্য হয়ে যান। আবাহনীর ফুটবলারদেরকে ড্রেসিং রুমে পাঠিয়ে দিয়ে উত্তেজনা থামানোর চেষ্টা করছেন ম্যাচ কমিশনার সুজিত কুমার ব্যানার্জী। বসুন্ধরা কিংসের সাদ উদ্দিন ম্যাচ কমিশনারের গায়ে হাত তোলেন।
কিংসের ম্যানেজার ওয়াসিমউজ্জামান এসে সাদকে ছাড়িয়ে নেন। উত্তেজনায় ফেটে পড়েন ম্যাচ কমিশনার। খানিকটা পরে ওয়াসিমউজ্জামান সাদকে এনে ম্যাচ কমিশনার সুজিদ কুমারের কাছে নিয়ে যান। দূর থেকে দেখে মনে হলো সরি বলার জন্য নিয়ে গিয়েছিলেন, কিন্তু ক্ষুব্ধ সুজিত সেটা মেনে নেননি।
বিকালে কুমিল্লায় মোহামেডান ২-১ গোলে পুলিশকে হারিয়ে সন্ধ্যায় ঢাকার ম্যাচ, বসুন্ধরা-আবাহনীর দিকে তাকিয়ে ছিল মোহামেডান। সেই ম্যাচে বসুন্ধরা কিংস ২-০ গোলে আবাহনীকে হারিয়ে মোহামেডানকে লিগ ট্রফি জয়ের পথে আরেকটু এগিয়েই দিল বলা যায়। দুই অর্ধে গোল করেছেন ফয়সাল হোসেন ফাহিম।
এবারের প্রিমিয়ার লিগের ট্রফি জেতার পথে মোহামেডান এককভাবেই ছিল। এখন ম্যাচ যতই কমছে মোহামেডানও যেন ট্রফির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। মোহামেডানের হাতে এখনো ৫ ম্যাচ রয়েছে। চ্যাম্পিয়ন হতে সব জেতা লাগবে না। আর দুটি ম্যাচ জিতলেই ট্রফি উৎসবের দিনক্ষণ নির্ধারণ করতে পারবে, যদি মোহামেডানের বিপক্ষে অলৌকিক কোনো কিছু না ঘটে। আপাতত মোহামেডানের সামনে দুইয়ে দুইয়ে ৪ মেলানোর মতো সোজা পথ। সব ম্যাচ না হারলে প্রিমিয়ার লিগের ট্রফি অন্য কারো ঘরে যাওয়ার সুযোগ নেই। আবাহনীর হারে আগে পুলিশের বিপক্ষে মোহামেডানের ম্যাচে জোড়া গোল করেছেন এমানুয়েল সানডে এবং মোজাফফরভ। মাকে পুলিশের ড্যানিলো অগাস্তোর গোলটি ব্যবধান কমিয়েছে মাত্র।
ফিলিস্তিনের নির্যাতিত মানুষের পক্ষে সমর্থন জানিয়ে পতাকা হাতে নিয়ে মাঠে নেমেছিল পুলিশ এদিকে রেলিগেশনের ফাঁদে পড়তে যাচ্ছিল ঢাকা ওয়ান্ডারার্স। ১২ খেলায় ১০ ম্যাচ হেরে ১ ড্রয়ের সঙ্গে জয় ছিল ১টা। রেলিগেশনের পথে যাচ্ছিল। এতো দিন পর দ্বিতীয় জয় পেয়েছে ওয়ান্ডারার্স। গতকাল গাজীপুরে অনুষ্ঠিত প্রিমিয়ার ফুটবলের ম্যাচে ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ১-০ গোলে ফটিস এফসিকে হারিয়েছে। আবু সুফিয়ান ইউসুফ সিফাত গোল করেছেন ৯০ মিনিটের পর। অতিরিক্ত ৬ মিনিটে গোল করেছেন তিনি। অপ্রত্যাশিত জয় নিঃশ্বাস পাচ্ছে ওয়ান্ডারার্স। দুই দলের কাগজেকলমের শক্তি বলছে না ফর্টিস হেরে যেতে পারে। তার পরও ফুটবল দর্শকদেরকে এখন এসব বিশ্বাস করতে হচ্ছে। পয়েন্ট টেবিলের মাঝে (১৩ খেলায় ১৮) ফর্টিসের অবস্থান। চ্যাম্পিয়ন হওয়া বা রেলিগেশনের সুযোগ নেই। ওয়ান্ডারার্স যদি বেঁচে যায়, ফর্টিসের বিপক্ষে ৩ পয়েন্ট পেয়ে স্বস্তি পাচ্ছে এবার প্রিমিয়ারে ওঠা ওয়ান্ডারার্স।