আবাহনী মাঠের লিজ বাতিল, সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখার উদ্যোগ

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:৪০

ধানমণ্ডির ঐতিহ্যবাহী আবাহনী মাঠ আর আবাহনী ক্লাবের অধীনে থাকছে না। চুক্তির শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় মাঠটির লিজ বাতিল করে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে ধানমণ্ডি ক্লাব লিমিটেডের মাঠের দায়িত্বও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এ উপলক্ষে বুধবার দুই মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, মাঠগুলো কোনো বিশেষ শ্রেণির মানুষের জন্য সীমাবদ্ধ থাকবে না; সর্বসাধারণের খেলাধুলার জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব ওবায়দুর রহমান জানান, আবাহনী ক্লাবের মাঠের ফি বাবদ দুই বছরের বকেয়া রয়েছে। তিনি বলেন, ২০২৩ সালের পর ক্লাব আর ফি পরিশোধ করেনি। ২০২৪ সালের ফি জমা দেওয়ার একটি রসিদ পাওয়া গেলেও তা চুক্তি বাতিলের পর দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, ৯৯ বছরের জন্য বরাদ্দ পাওয়া মাঠটির চুক্তিতে টানা দুই বছর ফি বকেয়া থাকার শর্তে লিজ বাতিল করা হয়েছে।

এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের বলেন, ‘গত ১১ মে আবাহনী ক্লাবের সঙ্গে করা চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। খেলার মাঠ থাকবে, বাচ্চারা খেলবে, এটা আমরা নিশ্চিত করতে চাই।’

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেন, ‘মাঠে ইতিমধ্যে যে অবকাঠামো তৈরি হয়েছে, তা না ভেঙে কীভাবে সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়, সেটিই এখন মূল লক্ষ্য।’ আবাহনী ও ধানমণ্ডি ক্লাব দেশের ঐতিহ্যবাহী ক্রীড়া প্রতিষ্ঠান উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে রেখে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘খেলার মাঠ কোনো বিশেষ শ্রেণির মানুষের জন্য সীমাবদ্ধ থাকবে না। মাঠগুলো সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। তবে মাঠের রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম প্রণয়ন করা হবে।’

খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড়দের ক্রীড়া ভাতা দেওয়ার পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া অবকাঠামো ও জনবল বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের ৪৯৫টি উপজেলায় উপজেলা ক্রীড়া কর্মকর্তার পদ সৃষ্টির অনুমোদন হয়েছে বলেও জানান তিনি।

 
ইত্তেফাক/এসএইচ