ডিমের মূল্য বৃদ্ধি কতটা যৌক্তিক

দেশের মানুষের আমিষের চাহিদা পূরণে বড় ধরনের ভূমিকা রাখছে ডিম। মাছ-মাংসের দামের উচ্চমূল্যে ডিম ছাড়া চিন্তাও করতে পারেন না স্বল্প আয়ের মানুষ। কিন্তু সেই ডিমও এখন সাধ্যের বাইরে। বর্তমানে রাজধানীর বাজারে প্রতি হালি ডিম বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪২ টাকায়। পাড়া-মহল্লার দোকানগুলোতে তা ৪৫ টাকা ছাড়িয়েছে। অথচ এক মাস আগেও ডিমের হালি ছিল ২৮ থেকে ৩০ টাকার মধ্যে। মাসের ব্যবধানে প্রতি হালিতে বেড়েছে ১০ টাকারও বেশি। কিন্তু ডিমের দাম বাড়ছে কেন?

খুচরা ব্যবসায়ীরা বলেছেন, পাইকারি বাজারে দাম বেশি। আর পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, ডিমের সরবরাহ কম।

গাজীপুরের খামার মালিক ও পোলট্রি খামার রক্ষা জাতীয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মো. মহসিন ইত্তেফাককে বলেন, গত কয়েক মাসে লো-প্যাথলজিক এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মুরগীর ডিম উত্পাদন ক্ষমতা কমে গেছে। এছাড়া অতিরিক্ত গরমের কারণেও অনেক মুরগী মারা গেছে। এসব কারণে, ডিমের উত্পাদন ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ কমেছে। সরকার পোলট্রি শিল্প খাতে বিশেষ প্রণোদনা ও ভ্যাটমুক্ত করলে ডিমের দাম কমানো সম্ভব।

মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দেশে দৈনিক ডিমের চাহিদা দুই কোটি ৭০ লাখ। দেশের সরকারি বেসরকারি খামারগুলো থেকে প্রতিদিন প্রায় আড়াই কোটি ডিম উত্পাদন হয়। গড়ে ঘাটতি থাকে প্রায় ২০ লাখ ডিম।

শান্তিনগরবাজারের ডিম ব্যবসায়ী বেলায়েত মণ্ডল গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, এক কেজির গরুর মাংসের দাম ৫৮০ টাকা। মাছেও হাত দেওয়া যায় না। মানুষতো এখন ডিমের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু বাজারে চাহিদা অনুযায়ী ডিমের সরবরাহ কম। তাই দাম বেশি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ডিমের দাম বাড়ায় সবচেয়ে সমস্যায় পড়েছে স্বল্প আয়ের মানুষ। মাছ-মাংসের দাম বেশি থাকায় তারা মূলত  ডিমের ওপর অনেকটা নির্ভরশীল।

রাজধানীর তুরাগ এলাকায় সাদ্দাম জেনারেল স্টোরে গতকাল ডিম কিনতে এসেছেন গার্মেন্টস শ্রমিক ফারুক হোসেন। তিনি বলেন, মাছ, মাংসের যে দাম তাতে ডিম ছাড়াতো উপায় নেই। কিন্তু এখনতো ডিমের দামও বেশি। দাম আর কত বাড়বে বুঝতে পারছি না!