ফ্লাইট মিস করা হজযাত্রীরা মক্কা যাচ্ছেন বিশেষ ব্যবস্থায়

সৌদি আরবের সার্ভার বিগড়ে যাওয়ার কারণে ভিসা না পাওয়ায় ফ্লাইট মিস করা হজযাত্রীদের বিশেষ ব্যবস্থায় মক্কা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। ফ্লাইট মিস করার কারণে হজযাত্রীদের জরিমানাও (প্রতি টিকিটের জন্য সাড়ে ৩০০ ডলার) মওকুফ করেছে বাংলাদেশ বিমান। ফ্লাইট মিস করা হজযাত্রীদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে আশকোনার হজক্যাম্পে। গতকাল শনিবার পর্যন্ত ১৫৬ জনের নাম পাওয়া গেছে। তাদের ১০৪ জনকে বিমানের ফ্লাইটে পবিত্র মক্কায় পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বাকিদের দ্রুত মক্কায় পৌঁছানো হবে বলে জানিয়েছে আশকোনাস্থ হজ অফিস। এদিকে, গতকাল পর্যন্ত হজযাত্রীদের জন্য ভিসা আবেদন করেনি দেশের ছয়টি হজ এজেন্সি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন না করলে অনিশ্চয়তায় পড়বেন এই এজেন্সিগুলোর মাধ্যমে আবেদন করা হজযাত্রীরা। দ্রুত সময়ের মধ্যে এই ছয় এজেন্সিকে হজভিসা আবেদনে বাধ্য করা হবে বলে জানিয়েছেন হজক্যাম্পের পরিচালক। সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী ১ লাখ ১০ হাজার জনের হজ ভিসা হয়েছে। গতকাল পর্যন্ত পবিত্র হজ পালনে ৭০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি সৌদি আরব পৌঁছেছেন। চলতি বছর সরকারি-বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট হজযাত্রীর সংখ্যা ১ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ জন। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে এ বছর হজ অনুষ্ঠিত হবে ১০ আগস্ট। ধর্ম মন্ত্রণালয় অনুমোদিত হজ এজেন্সির সংখ্যা ৫৯৮টি। গত ৪ জুলাই থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হয়। শেষ ফ্লাইট আগামী ৫ আগস্ট।

নৌপথে হজ পালন করবেন ২২ হাজার হজযাত্রী

যখন আকাশপথের সুবিধা ছিল না সেই অতীতে মানুষ হজে যেতেন পানিপথে। এখনো যাচ্ছেন, তবে সেই সংখ্যা মধ্যে কমে গেলেও আবারও বাড়ছে। গত বুধবার থেকে সৌদি আরবের জেদ্দা (ইসলামিক  পোর্টে) নৌবন্দর দিয়ে নৌপথে আসা হজযাত্রীরা দেশটিতে প্রবেশ করা শুরু করেছেন। প্রথম জাহাজে ৪৮০ জন যাত্রী ছিলেন। জাহাজটি সুদান থেকে আসে। 

সময়ের পরিক্রমায় এখন বিমানে অল্প সময়ে হাজার মাইল পথ পাড়ি দেওয়া সম্ভব। এক সময় ছিল যখন মানুষকে ১ বছর বা ৬ মাস আগ  থেকেই হজের সফর শুরু করতে হতো। বাংলাদেশ থেকেও পানি পথে মানুষ হজে যেতেন। সম্প্রতি ভারত সরকার নৌপথে হজ সার্ভিস চালু করার ঘোষণা দিয়েছে। বাংলাদেশ থেকে হজযাত্রী পরিবহনে নৌপথ ব্যবহারের দাবি দীর্ঘদিন ধরেই উচ্চারিত হচ্ছে। সাগরপথে চট্টগ্রাম থেকে জেদ্দা যেতে পারলে খুব কম খরচে আল্লাহর মেহমানরা হজ করতে পারবেন বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।