ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির এখনকার সবচেয়ে বড় সঙ্কট হলো নির্ভরযোগ্য তারকার অভাব। বলিউডে যেমন আমির-শাহরুখ থেকে শুরু করে গোটাপাঁচেক তারকার নাম আসবে, যাঁদের নামের ওপরে সিনেমা হলে দর্শক প্রবেশ করবে। কিন্তু সেই অর্থে তারকাদের ব্র্যান্ড ভ্যালু অনুযায়ী আমাদের সিনেমার তারকা নেই বললেই চলে। সেই নাজুক ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম ভরসা হয়ে আছেন এখন সাকুল্যে ৩ জন। তাই তাঁদেরকে এখনকার বাংলা সিনেমার ৩ টেক্কা বললেও ভুল বলা হবে না। তাঁদের নিয়েই আজকের আলোচনা—
তানভীর তারেক
চঞ্চল চৌধুরী
চলচ্চিত্রের পরশপাথর বলা হয় তাঁকে। এ যাবত্ তাঁর কোনো চলচ্চিত্রকে কোনোদিক দিয়েই তাঁর ঘোর শত্রুও ব্যর্থ বলে কেউ দাবি তুলতে পারেননি। যেমন পেয়েছে দর্শকপ্রিয়তা তেমনি চঞ্চল চৌধুরীর ছবি মানেই ঘরভর্তি পুরস্কার অর্জন। নির্মাতা কিংবা প্রযোজকদেরও স্ট্যাটাস বাড়িয়ে নেওয়া! তবে এসব অর্জন বা এই নির্ভরযোগ্যতা একদিনে তৈরি হয়নি তাঁর। টিভিপর্দার জনপ্রিয়তাকে ছাপিয়ে চলচ্চিত্রে এমন জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য তারকা আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে এর আগে কখনো আসেনি। হুমায়ুুন ফরীদি ছিলেন। কিন্তু চঞ্চল চৌধুরী একাধারে ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্রে থেকে কমার্শিয়াল দর্শকদের যেমন হলে এনেছেন তেমনি তাঁর অভিনয় ও ছবি বাছাইয়ের তীব্র দূরদর্শিতায় মধ্যবিত্ত দর্শক, যাঁরা হলবিমুখ থাকেন তাঁরাও সিনেমা হলে আসেন। মনের মানুষ, মনপুরা, আয়নাবাজি, দেবী থেকে শুরু করে চঞ্চল চৌধুরী তাই এমন একটি নাম যিনি অভিনয়ে আমাদের দেশের উঠোনে সবচেয়ে দামি তারকা। তাই তাঁর প্রতিটি নতুন ছবিতেও দারুণ কৌতুহল তৈরি হয়। যদিও শোনা যাচ্ছে, তিনি এবার অ্যাকশন-থ্রিলার ঘরানার এমন একটি ছবিতে কাজ করছেন, যা আগে কখনো দেখা যায়নি।
জয়া আহসান
দুই বাংলার মাপে তাঁর মতো অভিনেত্রী অনেকদিন আসেননি। তবে দেশীয় চলচ্চিত্রে প্রথম দুটি ছবি জয়া আহসানের মাপে যেন মূল্যায়িত হচ্ছিল না। কিন্তু নিজের প্রযোজনায় ‘দেবী’তে ছক্কা পেটালেন। চলচ্চিত্রের এখন একটি অতিথি চরিত্রেও জয়া থাকা মানে ছবিটির দারুণ এক হাইপ উঠে যাওয়া। আর তারকাদের ভেতরে নিজেকে ব্র্যান্ডিংয়ের জায়গায় এমন এক বিশ্বস্ততায় উঠিয়ে এনেছেন যে, দর্শকরা এখন জয়া আহসান কোনো ছবিতে থাকা মানেই সেই ছবিটি না দেখলে যেন নিজে থেকেই একটা সামাজিক আফসোস তৈরি হয়। আমাদের দেশীয় দর্শকদের কাছে তাই এক অহঙ্কারের নাম জয়া।
শাকিব খান
কমার্শিয়াল ছবির বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের রজনীকান্ত তিনি। তাঁর ছবি মানেই ব্যবসায়িকভাবে নিশ্চিত সফলতা। মাঝে যৌথ প্রযোজনার যে ডামাডোল চলছিল তখন ভাবা হচ্ছিল যে, দেব, জিত্ ঢাকার হলে এসে বুঝি শাকিবের দর্শক খেয়ে ফেলবে! কিন্তু হয়েছে উল্টো। কলকাতার ছবিতে কাস্ট হওয়ার পর উল্টো দেব-জিতদের আসন কাঁপিয়ে দিয়ে এসেছেন এই সুপারস্টার। নিজের প্রযোজনাসহ এখন সিনেমার হল প্রজেকশনের ব্যবসাতেও মনোনিবেশ করেছেন। তাতে বোঝাই যায় নিজের হাতের মুঠোয় রেখেই এই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির রাজত্ব করবেন। তাই বড় ক্যানভাসে শাকিব খানকে ব্যবহার করে সেই ছবির ঈষত্ ব্যর্থতাও হয়ে যায় নির্মাতার কারিগরী অসফলতা। তাঁর ক্রেজি দর্শকরা বলেই ফেলেন যে, শাকিবকে অমুক নির্মাতা ব্যবহার করতে পারেননি। একজন সুপারস্টারের ক্ষেত্রে এ রকম ফ্যান ফলোয়ার এবং ব্যবসায়িক নির্ভরতা বিশাল ও বিরল ঘটনা। আগামীতে বেশকিছু ছবি সিনিয়র নির্মাতাদের নিয়ে তৈরির ঘোষণা দিয়েও হৈ চৈ তুলে ফেলেছেন। সঙ্গে বেশকিছু নতুন অভিনেতাকেও ফিচার করবেন তিনি।