দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সর্ববৃহত্ চামড়ার বাজার যশোরের রাজারহাটের ব্যবসায়ীদের মধ্যে হাহাকার পড়ে গেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দরপতনের কারণে গত তিন বছর ধরে চামড়ার বাজারে ধস নেমেছে। গত দুই মাসে তা চরম আকার ধারণ করেছে। সবচেয়ে বড় মৌসুম আসন্ন কোরবানির ঈদে চামড়ার বাজার আরো পড়ে গেলে পাচারের আশঙ্কা ব্যবসায়ীদের।
কুষ্টিয়ার ব্যবসায়ী মো. আনসার আলী বলেন, ট্যানারি মালিকদের কাছে তার পাওনা কোটি টাকা। এ অবস্থায় ব্যবসায়ীরা নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে।
মাগুরার ব্যবসায়ী মো. মাসুদ রানা রাজারহাট থেকে শনিবার ৪০ টাকার মধ্যে প্রায় এক হাজার পিস চামড়া কেনেন। তিনি বলেন, নগদ টাকায় কিনে বাকিতে চামড়া বিক্রি করতে হয়। তার বকেয়া পড়েছে ৮০-৮৫ লাখ টাকা। এ টাকা পাওয়া যাবে কি না তা একমাত্র ‘আল্লাহ’ জানেন। ঐ বাজারের ইজারাদার শেখ হাসানুজ্জামান হাসু বলেন, ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে, আদৌ বকেয়া টাকা পাবে কি না। সরকার নজর না দিলে এ ব্যবসা শেষ হয়ে যাবে।
রাজারহাট চামড়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মবিনুল মজিদ পলাশ বলেন, ট্যানারি মালিকরা বলছেন, বিদেশে বিক্রি নেই। তাই তারা কিনতে আগ্রহী না।
সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দীন মুকুল বলেন, চার বছর আগেও চামড়ার বাজার চাঙ্গা ছিল। কিন্তু এরপর থেকে ধস নামতে শুরু করে। এখন তা ভয়াবহ অবস্থায় পৌঁছেছে। ট্যানারি মালিক ও পোস্তার আড়তদারদের কাছে ফড়িয়াদের পাওনা ১০ থেকে ১২ কোটি টাকা। এ টাকা না দিলে ফড়িয়ারা পথে বসে যাবে এবং পাটশিল্পের মতো চামড়া শিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে।
ঢাকার পোস্তার আড়তদার মো. তাজিমুল হক বাবু মোবাইলে বলেন, হাজারীবাগ থেকে হেমায়েতপুরে ট্যানারি স্থানান্তর হলেও সেখানে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পায়নি। তারা পরিবেশ দূষণের জন্য দায়ী করছে। চায়নার কৃত্রিম চামড়াও বাজার দখল করে নিয়েছে। এসব কারণে আন্তর্জাতিক বাজার নেমে গেছে।