কোরবানির ঈদ সামনে রেখে দেশজুড়ে জমে উঠেছে প্রস্তুতি। এরই মধ্যে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় আলোচনায় এসেছে দুটি বিশালাকার গরু—‘কালা মানিক’ ও ‘রাজা বাবু’। এদের প্রতিটির ওজন প্রায় ৩২ মণ করে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উপজেলার ইকরজানা গ্রামের বাসিন্দা আনিসুর প্রায় তিন বছর ধরে শখের বসে লালন-পালন করছেন গরু দুটি।
ফ্রিজিয়ান ক্রস ও শাহিওয়াল ক্রস জাতের এই গরু দুটি লম্বায় ও উচ্চতায় ছয় ফুটেরও বেশি। একেকটির ওজন ৩২ মনেরও বেশি বলে জানিয়েছেন খামারি আনিসুর। সম্পূর্ণ দেশীয় খাদ্য,কাঁচা ঘাস, খৈল, ভুসি, খড় ও দানাদার খাবার খাওয়ানো হয় গরু দুটিকে। বিশাল আকৃতির কারণে গরুগুলোর প্রতি যেমন মানুষের কৌতূহল বেড়েছে, তেমনি ফেলেছে ব্যাপক সাড়া।
খামারি আনিসুর জানান, গত তিন বছর ধরে পরম যত্নে‘কালা মানিক’ও ‘রাজা বাবুকে’বড় করেছেন তিনি। এরই মধ্যে অনেকেই গরু দুটি কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। গরু দুটির ৩২ লাখ টাকা দাম হাঁকালেও এখনো ন্যায্য দাম পাননি বলে বিক্রি করেননি। সাম্প্রতিক সময়ে গো-খাদ্যের দাম বাড়ার কারণে শঙ্কার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে স্থানীয়রা জানান, ওই এলাকায় অনেকেই গরু লালন পালন করে থাকে। কোরবানি ঈদে যা ঢাকা-চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হয়। এরমধ্যে রাজা বাবু ও কালা মানিককে দেখতে প্রতিদিনই উৎসুক মানুষ ভিড় করছে। গরু দুটি দেখতে দূর-দূরান্ত থেকেও ছুটে আসছেন অনেকেই।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল লতিফ বলেন, ‘এলাকায় এমন বড় গরু আগে কখনো দেখা যায়নি। কালা মানিক ও রাজা বাবু এখন পুরো অঞ্চলে আলোচনার কেন্দ্রে।’
সাঁথিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. জহুরুল ইসলাম জানান, বড় আকারের গরু পালনে প্রাণিসম্পদ বিভাগ খামারিদের পাশে থেকে সার্বিক সহযোগিতা করে যাচ্ছে। উপজেলায় এবারের কোরবানির ঈদ সামনে রেখে প্রায় ৬৭ হাজার পশু প্রস্তুত করা হয়েছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।