মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে ‘অভিযানে’ হামলা, আওয়ামী লীগকে দুষছে পুলিশ

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০২৬, ১৮:০৩

পাবনার সুজানগরের মথুরাপুর গ্রামে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখার আসরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী থাকার খবরে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। এই অভিযান চলাকালে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ জুলাই) দিবাগত রাতে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এসময় পুলিশের পিকআপ ভাঙচুরে ঘটনা ঘটে। এতে আহত হয়েছেন সুজানগর থানর ওসি ও এক কনস্টেবল।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মথুরাপুর গ্রামের পূর্বপাড়ার লোকজন বড় পর্দায় বিশ্বকাপ (আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড) ফুটবল খেলা দেখা শেষে প্রীতিভোজ করছিল। এ সময় সুজানগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে ৮/১০ জনকে আটক করে। খেলার আসরে উপস্থিত অন্যান্য লোকজন আটকদের নিরপরাধ দাবি করে ছেড়ে দিতে পুলিশকে অনুরোধ জানান। কিন্তু পুলিশ তাদের ছেড়ে না দেওয়ায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে আটকদের ছাড়িয়ে নিতে ওই গ্রামের একাধিক মসজিদে মাইকিং করা হয়। এসময় শত শত লোকজন ছুটে এসে পুলিশের উপর হামলা চালিয়ে আটকদের ছাড়িয়ে নেয়।

সুজানগর থানা–পুলিশের ভাষ্য, বিশ্বকাপ ফুটবল ঘিরে মানুষের জমায়েতের সুযোগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নাশকতার পরিকল্পনা করছেন, এমন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশের দুটি টহল দল মথুরাপুর এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানের সময় কয়েকজনকে আটক করা হয়।

পুলিশের দাবি, এরপর মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালান আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এ সময় হামলাকারীরা পুলিশের দুটি গাড়ি ভাঙচুর করেন এবং আটক ব্যক্তিদের ছিনিয়ে নিয়ে যান। এতে ওসিসহ দুজন আহত হন। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল ওহাবের উপস্থিতিতে এ হামলা চালানো হয় বলে পুলিশের অভিযোগ।

তবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আবদুল ওহাব। তিনি বলেন, ‘গ্রেপ্তার আতঙ্কে আমি জেলার বাইরে থাকি। পুলিশের ভয়ে এলাকায় যেতে পারি না। এ অবস্থায় আমি কীভাবে হামলায় থাকলাম? যতটুকু শুনেছি, রাতে খেলা দেখার পর গ্রামের ছেলেরা খিচুড়ি খাওয়ার আয়োজন করেছিল। পুলিশ গিয়ে ১০ থেকে ১২ জনকে আটক করে। পরে খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন, এমনকি নারীরাও ঘর থেকে বের হয়ে এসে তাঁদের ছাড়িয়ে নেন।’

এ বিষয়ে জানতে ওসি মোজাফফর হোসেনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

পাবনার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. ছুফি উল্লাহ বলেন, হামলা চালিয়ে ওসিসহ দুজনকে আহত করা হয়েছে। তারা চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ ব্যাপারে দোষীদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

ইত্তেফাক/এপি