অনুষ্ঠিত হলো বাংলাদেশের প্রথম কার্বন ফেস্ট ‘এগ্রিডিকার্বাথন’

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো আয়োজিত হলো কার্বন ফেস্ট ‘এগ্রিডিকার্বাথন ২০২৫’। গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সায়েন্স ক্লাবের আয়োজনে গাজীপুরে অবস্থিত সিসিডিবি ক্লাইমেট সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো দেশের প্রথম এই কার্বন ফেস্ট।

সামগ্রিক আয়োজনের স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার হিসেবে ছিল এনভোলিড লিমিটেড। অন্যান্য পার্টনারদের মধ্যে ছিল ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেইঞ্জ এন্ড ডেভেলপমেন্ট (আই.সি.সি.সি.এ.ডি.) ও এগ্রোট্রেন্ডস।

বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আগত শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে গাজীপুর জেলা থেকে নির্বাচিত বেশকিছু স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরাও অংশগ্রহণ করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ক্রিশ্চিয়ান কমিশন ফর ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ (সিসিডিবি) এর এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর জুলিয়েট কেয়া মালাকার। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার ড. মো. সাইফুল ইসলাম আফ্রাদ এবং বেশ কয়েকজন অধ্যাপক।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সিসিডিবি’র ডেপুটি ডিরেক্টর চন্দন চার্লস গোমেজ, এনভোলিড লিমিটেড এর সিইও মোরশেদুল বারীসহ আরও বেশ কয়েকজন গন্যমান্য অতিথি। অতিথিবৃন্দের মধ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, হেলভেটাস বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সটিটিউট, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট, সাসটেইনেবল এগ্রিকালচার ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম, গ্রামীণ শক্তি, ও.এইচ.এস.ই ফাউন্ডেশন, কার্বোবোন, ফিউচার কার্বন লিমিটেড এবং বেশ কিছু গণমাধ্যম থেকে আগত প্রতিনিধিরাও ছিলেন।

বাংলাদেশের প্রথম এই কার্বন ফেস্ট টি বেশ কিছু পর্বে বিভক্ত ছিল। প্যানেল আলোচনা, পোস্টার প্রেজেন্টেশন কম্পিটিশন, ভিডিও ডকুমেন্টারি কম্পিটিশন, কার্বন কোয়েস্ট, জলবায়ু প্রতিযোগসহ  তিনটি অনলাইন ট্রেইনিং সেশনও এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল। সমগ্র আয়োজনের ব্যাপারে প্রতিযোগীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।

আগত অতিথিরা অনন্য এই উদ্যোগকে বাংলাদেশের কার্বন-সহনশীল ভবিষ্যতের জন্য শক্তিশালী একটি আহ্বান হিসেবে দেখছেন। ব্যতিক্রমধর্মী এই আয়োজনের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের কার্বন ক্রেডিট, কার্বন ফাইন্যান্স, কার্বন মার্কেট, কার্বন ট্রেডিং, কার্বন সিকোয়েস্ট্রেশন ও কার্বন নিউট্রালিটির ব্যাপারে আরও গভীর উপলব্ধি তৈরি হয়েছে এবং এটি ভবিষ্যতে তাদের জলবায়ু বিষয়ক উদ্ভাবনের ব্যাপারে আরও বেশি আগ্রহী করে তুলবে।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘বায়োচার একটি সম্ভাবনাময় কৃষি প্রযুক্তি, যা মাটিতে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলভাবে কার্বন সঞ্চয়ের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই কৃষি চর্চা নিশ্চিত করে। কৃষিতে এর প্রয়োগ শুধু ফসল উৎপাদন বৃদ্ধিতেই নয়, বরং কার্বন বাজারে এর অন্তর্ভুক্তি- কৃষকদের জন্য নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বারও খুলে দিতে পারে।’

এগ্রিডিকার্বাথন নিয়ে তিনি বলেন, ‘দেশের প্রথম এই কার্বন ফেস্ট শিক্ষার্থীদের জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে নতুন করে ভাবতে শেখাবে এবং কার্বন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আরও ভালোভাবে জানার ব্যাপারে আগ্রহ সৃষ্টি করবে।’

আয়োজিত অন্যান্য অতিথিরাও কার্বন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞানগর্ভ আলোচনা করেন, জলবায়ু খাতে পেশাগত সম্পৃক্ততার ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেন এবং এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিতও করেন।

উক্ত আয়োজনে জলবায়ু অর্থায়ন বিশেষজ্ঞ, জলবায়ু প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠান, কার্বন উদ্যোক্তা, বিভিন্ন পেশাজীবী, কৃষিবিদ, উন্নয়নকর্মী, গবেষক এবং দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা ও মতামত উঠে আসায় আয়োজনটি বাংলাদেশের কার্বন সংশ্লিষ্ট চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা এবং টেকসই সমাধান এগিয়ে নেয়ার জন্য একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলেই মনে করছেন আয়োজকেরা। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে জাতীয়ভাবে এবং ক্রমান্বয়ে আন্তর্জাতিকভাবে কার্বন সেক্টরকে উপলক্ষ্য করে এমন অনুষ্ঠান আয়োজন করেছেন তারা।