রাজশাহীতে ছেলেধরা সন্দেহে ১২ ব্যক্তি গণপিটুনির শিকার

রাজশাহী অঞ্চলে ‘ছেলেধরা গুজব’ ডালপালা আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। এ নিয়ে স্থানীয় জনমনে রীতিমত আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ছেলেধরা সন্দেহে গত দুদিনে অন্তত ১২ ব্যক্তিকে গণপিটুনি দিয়েছে স্থানীয়রা। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এ ধরণের গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। পুলিশ বলছে, এ ধরণের গুজবের কোনো ভিত্তি নেই। 

এদিকে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলায় থানা পুলিশকে মাইকিং করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজশাহীর পুলিশ সুপার (এসপি) মো. শহিদুল্লাহ সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, রবিবার সকালে নওগাঁর মান্দায় ‘ছেলেধরা’ সন্দেহে ৬ যুবককে গণপিটুনি দিয়েছে স্থানীয়রা। পরে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। তবে দুপুর পর্যন্ত এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।

                    ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনির শিকার মানসিক প্রতিবন্ধী কিশোর। ছবি: ইত্তেফাক

এদিন রাজশাহীর মহানগরীর বিনোদপুর মিজানের মোড় এলাকায় রবিবার দুপুরে ছেলেধরা সন্দেহে তিন ব্যক্তিকে গণপিটুনি দিয়েছে এলাকাবাসী। এ সময় তাদের বহনকারী গাড়িটি ভাঙচুর করেছে এলাকাবাসী। পুলিশ গিয়ে এলাকাবাসীকে শান্ত করে ওই তিন ব্যক্তিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

পুলিশ জানায়, ওই তিন ব্যক্তি একটি কোম্পানির চিপস প্রচারের জন্য শিশুদের খাওয়াতে গেলে হঠাৎ স্থানীয় লোকজনের মধ্যে ছেলেধরা সন্দেহ জাগে। এলাকাবাসী জিজ্ঞেস করে, আপনারা কোন কোম্পানি থেকে এসেছেন। আপনাদের পরিচয়পত্র কোথায়? এ সময় তারা পরিচয়পত্র দেখাতে ব্যর্থ হলে এলাকাবাসী ছেলেধরা সন্দেহে তাদের গণপিটুনি দেয়। বিকেলে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ওই তিন ব্যক্তি নগরীল মতিহার থানায় ছিলেন। তাদের ভাঙচুরকৃত গাড়িটিও থানায় আটক রাখা হয়েছে।

এর আগে শনিবার বিকেলে রাজশাহীর তানোরে ছেলেধরা সন্দেহে দুই যুবককে গণপিটুনি দিয়ে প্রশাসনের হাতে তুলে দিয়েছে গ্রামবাসী। এতে তারা আহত হলে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। কলমা ইউনিয়নের বহড়া ও কামারগাঁ ইউনিয়নের কচুয়া গ্রামে এসব ঘটনা ঘটে।

তানোর থানার ওসি খাইরুল ইসলাম বলেন, কলমা ইউনিয়নের বহড়া থেকে ছেলেধরা সন্দেহে লুৎফর রহমান (২৮) নামের এক যুবককে গণপিটুনি দিয়ে র‌্যাব-৫ এর হাতে তুলে দিয়েছে গ্রামবাসী। শনিবার বিকালে র‌্যাবের একটি দল যুবকটিকে ঘটনাস্থল উদ্ধার করে তানোর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। সে মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় তার বাড়ির ঠিকানা জানা যায়নি।

                                  ছেলেধরা গুজবে কান না দিতে পুলিশের মাইকিং। ছবি: ইত্তেফাক

এছাড়া কামারগাঁ ইউনিয়নের কচুয়া গ্রামে মনোয়ারুল (২৯) নামের এক যুবককে ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে। তার বাড়ি রাজশাহীর মোহনপুরে।

পুলিশ জানায়, গত শনিবার সকালে ছেলেধরা সন্দেহে রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে এক প্রতিবন্ধী নারীকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে মহল্লাবাসী।  গোদাগাড়ী পৌরসভার শ্রীমন্তপুর মহল্লার এ ঘটনার পর পুলিশ অবশ্য ওই নারীকে ছেড়ে দিয়েছে। 

অপরদিকে শনিবার দুপুরে পাবনার চাটমোহরে উপজেলার বনগ্রাম বাজারে ছেলেধরা সন্দেহে যুবক রাসেল রানাকে (৩২) গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে এলাকাবাসী। আটক যুবক রাসেল ঈশ্বরদী উপজেলার আমবাগান এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে।

                               ছেলেধরার গাড়ি সন্দেহে ভাঙচুর করা কোম্পানির গাড়ি। ছবি: ইত্তেফাক

এদিকে ‘ছেলেধরা’ গুজবে কান না দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন রাজশাহীর পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ্। তিনি রবিবার সাংবাদিকদের বলেন, কথিত ‘ছেলেধরা’র বিষয়টি একেবারেই গুজব। কোনো মহল হয়তো অসৎ উদ্দেশ্যে এ ধরনের গুজব ছড়িয়ে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে। গুজব সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

আরও পড়ুন: পদ্মার স্রোতে ভেসে গেল নব দম্পতি

তিনি আরও বলেন, কথিত ছেলেধরা আতঙ্কে কোনো শিশুর যেন স্কুলে যাওয়া বন্ধ না হয়। কারও আচরণ সন্দেহজনক হলে দ্রুত পুলিশকে অবহিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

ইত্তেফাক/নূহু