আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রিয়া সাহা যে সব তথ্য দিয়েছেন তা সর্বৈব মিথ্যা। উনি তার কোনো ব্যক্তিগত ইচ্ছা চরিতার্থ করতে এসব বলেছেন। এ বিষয়ে কোনো গোষ্ঠী বা অন্য কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হবে। তিনি বলেন, প্রিয়া সাহাকে এত গুরুত্ব না দিয়ে শুধু সত্যটাকে তুলে ধরে বাকিটুকু ইগনোর করলেই ভালো হয়। উনার দেওয়া বক্তব্য রাষ্ট্রদ্রোহী হয়ে গেছে এটা বোধ হয় ঠিক না, তবুও স্বাধীন বিচার বিভাগের বিচারকরা যেটা মনে করবেন সেটা করবেন। গতকাল রবিবার বিচার প্রশাসন ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে সহকারী জজদের ৩৯তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রিয়া সাহার বক্তব্য দেওয়ার পরে শুধু হিন্দু সম্প্রদায় না সকলেই বলেছেন যে বাংলাদেশে আমরা সকলেই সম্প্রীতির মাধ্যমে বসবাস করছি। যদি ইতিহাসও ঘাঁটা হয় তাহলে দেখা যাবে এই বাংলাদেশের মাটিতে সবচেয়ে কম ধর্মীয় সংঘাত হয়েছে। বাংলাদেশ হওয়ার পরে এরশাদ সরকারের সময়ে একটা হতে গিয়েছিল। এছাড়া কিন্তু কেউ উদাহরণ দিতে পারবে না যে, এখানে কোনো ধর্মীয় সংঘর্ষ হয়েছিল। হ্যাঁ আর একটা ২০০১ সালে বিএনপি যখন ক্ষমতায় এসেছিল তখন তারা কিছুটা এইসব কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিলেন এবং সেগুলোর বিচার হচ্ছে।
বরগুনার মিন্নির প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, সংবিধানে অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে বলা আছে যে একজন আসামিরও একজন আইনজীবী রাখার অধিকার আছে। সেই ধারাবাহিকতায় যেসব মামলায় মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন দেওয়া যেতে পারে সেখানে আমরা রাষ্ট্রকর্তৃক আইনজীবী দিয়ে থাকি। বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বিচারপতি খোন্দকার মূসা খালেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আইন সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হকও বক্তৃতা করেন।