ভাটারায় গৃহবধূ হত্যার দায় স্বীকার করেছে প্রেমিক নাজমুল

রাজধানীর ভাটারায় গৃহবধূ আয়শা বেগম (৩০) হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে জড়িত নাজমুল গ্রেফতার হওয়ার পর এই হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। গতকাল রবিবার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (উত্তর) গুলশান জোনাল টিমের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার  গোলাম সাকলায়েন জানান, জিজ্ঞাসাবাদে নাজমুল এই হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর সায়েদাবাদ থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডে নেয়ার জন্য আবেদন জানানো হবে। 

পুলিশ জানায়, দুই বছর আগে আয়শার  ট্রাকচালক স্বামী অন্য নারীকে বিয়ে করে সংসার শুরু করেন। আয়শা ও দুই সন্তানের খোঁজ নিতেন না। স্বামীকে নিজের কাছে ফেরানোর চেষ্টা করেন আয়শা। এর মধ্যে  প্রতিবেশী নাজমুল নামের এক প্রাইভেটকার চালকের সঙ্গে পরিচয় হয় তার। স্বামীকে ফেরানোর জন্য নাজমুলকে ২৪০০ টাকাও দেন আয়শা। আয়শার এই দুর্বলতার সুযোগে নাজমুল কৌশলে তার সাথে দৈহিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। গত ৪ জুলাই মধ্যরাতে নাজমুল আয়শার ঘরে যায়। এ সময় তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আয়েশাকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ায় নাজমুল। আয়শা ঘুমিয়ে পড়লে গলায় জিআই তার পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করে। 

অতিরিক্ত উপকমিশনার  গোলাম সাকলায়েন বলেন, আয়শা হত্যাকাণ্ডে ব্যবহূত জিআই তার এবং মোবাইল ফোনের সিম কার্ড ও ওষুধ উদ্ধার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ৫ জুলাই দুপুরে রাজধানীর ভাটারা থানা এলাকার ছোলমাইদ কবরস্থান রোডের একটি টিনশেড বাসা থেকে আয়শা বেগমের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। আয়শা নোয়াখালী  জেলার সুবর্নচর থানার চর আবদা গ্রামের  খোকনের মেয়ে। জয় (১২) এবং ঐশী (৮) নামে তার দুই সন্তান রয়েছে।