বাড্ডায় গণপিটুনি

সন্দেহভাজন তিনজন গ্রেফতার

বাড্ডায় ছেলেধরা গুজবে গণপিটুনি দিয়ে তাসলিমা বেগম রানু (৪০) নামে এক নারীকে হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ওই তিনজন হলে জাফর, শাহিন ও সাইদুল ইসলাম বাপ্পী। গতকাল রবিবার রাতে বাড্ডা থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে। আজ সোমবার তাদেরকে আদালতে সোপর্দ করা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে গণপিটুনির ভিডিওতে হানিফ নামের যে যুবকে এ হত্যাকান্ডের নেতৃত্ব দিতে দেখা যায় তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। তার বাসায় পুলিশ একদফা অভিযান চালিছে। সে পলাতক রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এদিকে ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল রবিবার দুপুরে তাসলিমার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ। পরে দাফনের জন্য স্বজনরা নিহতের লাশ লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার সোনাপুর গ্রামে নিয়ে গেছেন।

বাড্ডা থানা সূত্র জানায়, গণপিটুনি দিয়ে এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় গত শনিবার রাতেই নিহতের বোনের ছেলে নাসির উদ্দিন বাদী হয়ে বাড্ডা থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় অজ্ঞাত ৪ থেকে ৫শ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার এজাহারের বরাত দিয়ে বাড্ডা থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, বাদী নাসির উদ্দিন এজাহারে বলেছেন, হঠাত্ অনেকেই তসলিমা বেগম রেনুর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাকে গণপিটুনি দেয়া হলে তিনি নিহত হন। স্কুলের শিক্ষার্থীদের অভিভাবক, পথচারীসহ স্থানীয় অনেকেই তাকে হত্যা করেছে। তবে পুলিশ এ ঘটনার একাধিক ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। ফুটেজ দেখে দেখে ঘাতকদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। তাদেরকে গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে রয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।

থানা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, গণপিটুনির ভিডিওতে যে যুবকে এ হত্যাকান্ডের নেতৃত্ব দিতে দেখা গেছে তার নাম হূদয়। তার বাবার নাম হানিফ আলী। উত্তর বাড্ডার মিছরিটোলা এলাকায় তাদের বাসা। গতকাল রবিবার পুলিশের একটি টিম হূদয়ের বাসায় হানা দিয়েছে। তবে তাকে পাওয়া যায়নি। এ ঘটনার পর থেকে হূদয় পলাতক রয়েছে। পুলিশ প্রযুক্তির মাধ্যমে তার অবস্থান সনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছে।

পুলিশের সংগ্রহকরা গণপিটুনির ভিডিওতে দেখা যায়, বাড্ডার অল্প কয়েকজন যুবকই মারছে তাকে। বাকিরা দেখছে, কেউ কেউ কাছ থেকে মোবাইলে ভিডিও করছে। ৮-১০ মিনিট লাঠিপেটার পর আবার উপর্যুপরি লাথি দেয়া হয়।