মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে আরও অস্থিতিশীলতার সম্ভাবনা দেখে উদ্বিগ্ন হয়ে সৌদি আরবের ৮৯ বছর বয়সী বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ তার ছেলে প্রিন্স খালিদ বিন সালমানকে দিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। বার্তায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে আলোচনার প্রস্তাবকে গুরুত্ব সহকারে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল। শুক্রবার (৩০ মে) সূত্রের বরাতে এক প্রতিবেদনে এ কথা জানিয়েছে রয়টার্স।
প্রতিবেদন অনুসারে, সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী গত মাসে তেহরানে ইরানি কর্মকর্তাদের কাছে এই চিঠিটি পাঠিয়েছেন।
সূত্র রয়টার্সকে জানায়, ১৭ এপ্রিল তেহরানে প্রেসিডেন্ট ভবনে অনুষ্ঠিত রুদ্ধদ্বার বৈঠকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মোহাম্মদ বাঘেরি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি উপস্থিত ছিলেন।
৩৭ বছর বয়সী যুবরাজের সফর সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত হলেও, বাদশাহ সালমানের গোপন চিঠির বিষয়বস্তু আগে কখনো প্রকাশিত হয়নি।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুসারে, চারটি সূত্রের মতে, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ওয়াশিংটনে সৌদি রাষ্ট্রদূত থাকা প্রিন্স খালিদ ইরানি কর্মকর্তাদের বার্তা দিয়েছিলেন, টানা আলোচনার জন্য মার্কিন নেতার ধৈর্য কম।
এক সপ্তাহেরও বেশি সময় আগে ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে তেহরানের সাথে সরাসরি আলোচনা চলছে, যার বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে। তিনি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর উপস্থিতিতে এটি করেছিলেন, যিনি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলার জন্য সমর্থন পাওয়ার আশায় ওয়াশিংটন ভ্রমণ করেছিলেন।
চারটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, তেহরানে প্রিন্স খালিদ ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের একটি দলকে বলেছিলেন, ট্রাম্পের দল দ্রুত একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চাইবে এবং কূটনীতির জানালা দ্রুত বন্ধ হয়ে যাবে।
দুটি উপসাগরীয় সূত্রের মতে, সৌদি মন্ত্রী বলেছেন, আলোচনা ভেঙে গেলে ইসরায়েলি আক্রমণের সম্ভাবনার মুখোমুখি হওয়ার চেয়ে আমেরিকার সাথে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো ভালো হবে।
তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন, গাজা এবং লেবাননে সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে ইতোমধ্যেই বিপর্যস্ত এই অঞ্চলটি আরও উত্তেজনা বৃদ্ধি সহ্য করতে পারবে না। দুটি উপসাগরীয় সূত্র এবং আলোচনার সাথে পরিচিত একজন জ্যেষ্ঠ বিদেশি কূটনীতিক রয়টার্সকে এ কথা বলেছেন।
সৌদি আরব এবং ইরানের কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের জন্য অনুরোধে সাড়া দেয়নি বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।
ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের ছোট ভাই প্রিন্স খালিদের এই সফর ছিল দুই দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সৌদি রাজপরিবারের কোনো জ্যেষ্ঠ সদস্যের প্রথম ইরান সফর।
রিয়াদ এবং তেহরান দীর্ঘদিন ধরেই তিক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল, প্রায়শই প্রক্সি যুদ্ধে বিরোধী পক্ষকে সমর্থন করত। তবে ২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় একটি 'পুনর্মিলন' উত্তেজনা প্রশমিত করতে এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে সহায়তা করে।