কাপ্তাইয়ে বাড়ছে কলার চাষ

কাপ্তাই উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে অসংখ্য ছোটবড় পাহাড় রয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশ পাহাড়ে কলার চাষ হচ্ছে। পাহাড় ছাড়া সমতল ভূমিতেও কলা চাষ করা হচ্ছে। এতদঞ্চলের কলা আকারে বড় ও সুস্বাদু হয়। তাই এখানকার কলার চাহিদা সর্বত্র রয়েছে। আর এই চাহিদাকে সামনে রেখে চাষিরাও নিয়মিত কলার চাষ করে যাচ্ছেন। কাপ্তাই থেকে প্রতিদিন কয়েক লাখ টাকার কলা চট্টগ্রাম, ঢাকাসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে।

কাপ্তাই উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার রাইখালী, চিত্মরম এবং ওয়াগগা ইউনিয়নে কলার চাষ হচ্ছে বেশি। এসব এলাকার শতশত পরিবার বছরের পর বছর ধরে কলা চাষের উপর নির্ভরশীল। এছাড়াও চন্দ্রঘোনা এবং কাপ্তাই ইউনিয়নেও প্রচুর কলা চাষ হচ্ছে।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মংসুই প্রু চৌধুরী জানান, কাপ্তাই উপজেলার ৫ ইউনিয়নে মোট কত পরিবার কলা চাষের উপর নির্ভরশীল তার সঠিক তালিকা নেই। তবে এক হাজারের বেশি পরিবার কলা চাষের সাথে যুক্ত আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। কাপ্তাই থেকে উত্পাদিত কলার সিংহভাগ ঢাকা ও চট্টগ্রামে রপ্তানি করা হয়। প্রতিদিন নৌকা ভর্তি করে কর্ণফুলী নদী পথে কাপ্তাই থেকে হাজার হাজার কলার ছড়া চট্টগ্রামে সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়াও বাস, ট্রাক, মিনি বাস, অটোরিকশা ইত্যাদি বোঝাই করে সড়ক পথেও কলা শহরের দিকে পাঠানো হচ্ছে।

স্থানীয় মিলন তনচংগ্যা জানান, বংশ পরম্পরায় তারা কলা চাষ করে। তারমতো শতশত পরিবার কলা চাষ করছে বলেও তিনি জানান। কলা চাষে খরচ ও পরিশ্রম কম; কিন্তু মুনাফা থাকে বেশি। এক একরের একটি কলা বাগান থেকে কলা চাষ করে লাখ টাকার বেশি আয় করা সম্ভব। সুন্দর ও ভালো আকারের কলার চাহিদা সব জায়গাতেই রয়েছে। কাপ্তাই উপজেলা কলা চাষের ঘাঁটি হলেও কখনো কখনো এখানেই এক ডজন কলা দেড়শ টাকাও বিক্রি করা হয়।

কলা বাগান করে কিভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ রয়েছে এ ব্যাপারে কলা চাষের সাথে সম্পৃক্ত মোঃ নাসির উদ্দিন বলেন, কলা খাবার পাশাপাশি স্থানীয়দের কাছে কলা গাছের বুগুলির (কলার শাঁস) বেশ চাহিদা রয়েছে। অনেকে কলা গাছের বুগুলি খায়। অনেকে বুগুলি বিক্রিও করেন। কলা গাছ গরু-ছাগলে খায়। কলার থোড় ঔষধি হিসেবে ব্যবহূত হচ্ছে। এর লতাপাতা পচে মাটির উর্বরা শক্তি বাড়ায়। তাই পাহাড়ে এখনো যেসব জমি ও পাহাড় অনাবাদি পড়ে আছে সেগুলোতে কলার বাগান করে বেশ লাভবান হবার সুযোগ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

কাপ্তাই উপজেলায় অবস্থিত পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্র রাইখালীর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোঃ আলতাফ হোসেন বলেন, কেউ যদি আগ্রহী হয়ে কলা চাষ বিষয়ে আমাদের সহযোগিতা চায় তাহলে কলা চাষ বিষয়ে আমরা সব ধরনের সহায়তা করতে প্রস্তুত রয়েছি বলেও তিনি জানান।