হাসপাতালে নেই বিদ্যুৎ, পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে জেনারেটর ও আইপিএস ব্যবস্থা। কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে এমন ‘হ য ব র ল’ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে। এমনটাই অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ও রোগী-স্বজনদের।
শনিবার (৩১ মে) সন্ধ্যা ৭ টার দিকে রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে রোগীরা। ঘনঘন লোডশেডিং হওয়ার কারণে শিশু ও বৃদ্ধ রোগীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।
তবে, দ্রুত এসব সমস্যার সমাধান করা হবে বলে জানান উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার আব্দুস সামাদ। তিনি জানান, বিদ্যুতের লোডশেডিং চলছে। আইপিএস এর চার্জ নেই। তাছাড়া জেনারেটর অনেকদিন থেকে অকেজো হয়ে পড়ে আছে। এজন্য অন্ধকার হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, জরুরি বিভাগের সামনে থেকে কয়েকহাত দূরে অন্ধকারে কিছু দেখা যাচ্ছে না। রোগীর স্বজনরা মোবাইলের লাইট ধরে চলাফেরা করছেন। জরুরি বিভাগ থেকে সামনে এগিয়ে দ্বিতীয় তলায় শিশু, নারী ও পুরুষ ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, রোগীর সঙ্গে আসা স্বজনরা মোবাইলের আলো অথবা চার্জার লাইট জ্বালিয়ে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করছেন।
ফ্যান না চলায় তীব্র গরমে রোগীরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছেন। এসময় রোগীর স্বজনরা হাতপাখা দিয়ে বাতাস করার চেষ্টা করছেন। তবে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জেনারেটর থাকলেও তা নষ্ট দেখানো হয়। দায়িত্বরতরা বলছেন- জেনারেটর চালানোর জন্য কোনও অর্থ বরাদ্দ না থাকায় প্রায় দুইবছর ধরে বন্ধ রয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অফিস সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জেনারেটরটি অকেজো হয়ে পড়ে আছে। চার্জ না থাকায় আইপিএসও বন্ধ রয়েছে। লোডশেডিংয়ের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় ভোগান্তি বেড়েছে কয়েকগুণ। দিনে লোডশেডিং হলে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা পড়েন নানা সংকটে। তবে রাতে লোডশেডিং হলে সংকটটা দ্বিগুণ বেড়ে যায়। অন্ধকারাচ্ছন্ন হাসপাতাল পরিণত হয় ভুতুড়ে পরিবেশে।
বিদ্যুৎ চলে গেলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে লাইট জ্বালানোর কোনও ব্যবস্থা নেই। ফলে রোগীর স্বজনদের মোবাইল ফোনের আলোতে চলাফেরা করতে হয়। বিদ্যুৎ না থাকলে শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীদের ভোগান্তি বেড়ে যায়। প্রচণ্ড গরমে আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছেন তারা। এছাড়া রয়েছে মশার উপদ্রব।
চিকিৎসা নিতে আসা আমিনুল ইসলাম বলেন, বিদ্যুৎ না থাকলে হাসপাতাল অন্ধকার হয়ে যায়। মোবাইলের লাইট জ্বালিয়ে রাখতে হয়। ফ্যান চলে না, হাতপাখা দিয়ে বাতাস করতে হচ্ছে। অন্ধকারে রোগীকে ঔষধ খাওয়াতে পারি না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার উজ্জ্বল কুমার হালদার বলেন, বিদ্যুৎ না থাকলেও বিকল্প ব্যবস্থা চালু রাখা জরুরি। রোগীরা কষ্ট পাবে এটা কাম্য নয়। আমি এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।