লস অ্যাঞ্জেলেসে এবার মেরিন সেনা মোতায়েন

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেস শহরে অভিবাসীবিরোধী অভিযানের জেরে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে এবার মোতায়েন করা হয়েছে ৭০০ মেরিন সেনা। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ এবং অব্যাহত উত্তেজনার পর অন্যান্য বাহিনীর সহায়তায় তাদের নামানো হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। খবর বিবিসির।

এক বিবৃতিতে বলা হয়, লস অ্যাঞ্জেলেসের বিভিন্ন এলাকায় ফেডারেল কর্মী ও সরকারি সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মেরিন সেনারা মাঠপর্যায়ে কাজ করবে। নজরদারি জোরদার ও প্রয়োজনীয় বাহিনী নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এর আগে টাস্ক ফোর্স ৫১-এর আওতায় ২ হাজার ১০০ ন্যাশনাল গার্ড সদস্য ও ৭০০ মেরিন সেনা মোতায়েন করা হয়। সামরিক বাহিনী জানায়, এসব সেনা উত্তেজনা প্রশমন, জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ এবং বলপ্রয়োগের নিয়ম নিয়ে প্রশিক্ষিত।

তবে এই সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেছেন ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম। তিনি একে 'অযৌক্তিক' বলে মন্তব্য করে বলেন, 'মেরিন সেনারা আমাদের বীর। কিন্তু একজন স্বৈরতান্ত্রিক প্রেসিডেন্টের বাস্তবতা বিবর্জিত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য তাদের জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করানো যুক্তরাষ্ট্রের মূল আদর্শের পরিপন্থী।'

এর আগেও লস অ্যাঞ্জেলেসে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, গার্ড মোতায়েন না করলে শহর পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যেত।

এদিকে সান ফ্রান্সিসকো পুলিশের ভারপ্রাপ্ত প্রধান পল ইয়েপ জানান, রোববারের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ একপর্যায়ে সহিংসতায় রূপ নেয়। এতে এক পুলিশ কর্মকর্তা আহত হন। তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হলেও পরে তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন।

বিক্ষোভ চলাকালীন ৬০ জনকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়, যারা বিক্ষোভস্থল ছাড়তে অস্বীকৃতি জানায়। রাতভর গ্রেপ্তার করা হয় আরও ১৪৮ জনকে, যাদের মধ্যে ছয়জন ছিল অপ্রাপ্তবয়স্ক। পরে ১৪৭ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়। গ্রেপ্তারদের অর্ধেক সান ফ্রান্সিসকোর বাসিন্দা, বাকিরা শহরের বাইরের লোক।

মাঠে সেনা নামানো এবং ক্রমবর্ধমান সংঘর্ষে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে প্রশাসনের পদক্ষেপ পর্যবেক্ষণে রয়েছে আন্তর্জাতিক মহল।