নতুন করে চোখ রাঙাচ্ছে করোনা ভাইরাস। দেশে নতুন করে বাড়ছে প্রাণঘাতী ভাইরাসটির সংক্রমণ। সতর্কবার্তা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এদিকে রাজধানীর কমলাপুর রেল স্টেশনে মাস্ক পরিধান এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, উত্সাহিত করতে চালাচ্ছে বিরামহীনভাবে মাইকিং।
ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) কর্তৃপক্ষও যাত্রীদের মাস্ক পরার অনুরোধ জানিয়ে নির্দেশনা দিয়েছে। তবে এই অনুরোধ মানছেন না বেশির ভাগ যাত্রী। ঈদুল আজহা উদ্যাপন শেষে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ফিরতি যাত্রায় ট্রেনে গাদাগাদি করে ঢাকায় ফিরছে মানুষ। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে করোনা প্রতিরোধে সতর্কতা নন-টাচ পদ্ধতিতে চলছে যাত্রীদের দেহের তাপমাত্রা নির্ণয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার কমলাপুর ও বিমানবন্দর স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, প্রায় সব যাত্রী মাস্কবিহীন। দুই-একজনের মুখে মাস্ক দেখা গেলেও তা দুর্গন্ধের কারণে পরেছেন বলে জানান যাত্রীরা। ট্রেনের সাধারণ নন-এসি বগিতে গাদাগাদি করে ঢাকায় আসছেন স্ট্যান্ডিং টিকিটের যাত্রীরা। তাদের কেউ স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না।
রাজশাহী থেকে ঢাকায় আসা সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনের এক্সট্রা-২ বগির যাত্রী রেজাউল ইসলাম। তিনি চাটমোহর থেকে দাঁড়িয়ে ঢাকা এসেছেন। বিমানবন্দর স্টেশনে নামেন। তিনি বলেন, ‘ঈদের সময় গাদাগাদি করে আসতে হবে। তাছাড়া তো কিছু করার নেই। ’ট্রেনে টিকিট চেকের দায়িত্বে থাকা টিটিদের কারো মুখে মাস্ক দেখা যায়নি। খাবার বিক্রি করা কর্মীরা মাস্কবিহীন। তারা করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ার বিষয়টি শুনলেও গুরুত্ব দিচ্ছেন না।
রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার নির্দেশনা পাওয়ার পর থেকে গত দুই দিন ধরে যাত্রীদের মাস্ক পরিধান করার জন্য বিরামহীনভাবে মাইকিং করা হচ্ছে। আশা করি যাত্রীরা সচেতন হবেন। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে যাত্রীরা স্বাস্থ্যবিধি মানবেন।
মাস্ক পরছেন না মেট্রোরেলের বেশির ভাগ যাত্রী : করোনার সংক্রমণ এড়াতে যাত্রীদের মাস্ক পরার নির্দেশনা দিয়েছিল ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। তবে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের এই অনুরোধ মানছেন না বেশির ভাগ যাত্রী।
গত ৯ জুন এক বিজ্ঞপ্তিতে ডিএমটিসিএল জানায়, ‘করোনার সংক্রমণ এড়াতে মেট্রোরেলে ভ্রমণকারী সম্মানিত যাত্রীসাধারণকে মাস্ক পরিধান করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হচ্ছে।’ এই নির্দেশনার দুই দিন পার হলেও মেট্রোরেলের যাত্রীদের মাস্ক পরার আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না।
গতকাল বৃহস্পতিবার মেট্রোরেলের কয়েকটি স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, যাত্রীরা যেমন মাস্ক পরছেন না, তেমনই স্টেশনের সংশ্লিষ্ট কাউকেই যাত্রীদের মাস্ক পরার জন্য সতর্ক করতেও দেখা যায়নি। এমনকি মাইকে ঘোষণা দেওয়ার সুযোগ থাকলেও তা করা হচ্ছে না। স্টেশনের কোথাও মাস্ক পরার বিষয়ে কোনো বিজ্ঞপ্তি চোখে পড়েনি।
কাওরান বাজার মেট্রোরেল স্টেশনে মাস্ক ছাড়াই আসা যাত্রী মো. সাকলাইন বলেন, ‘করোনা বাড়ায় মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ মাস্ক পরার কথা বলেছে, এটা জানি। কিন্তু আজকে মাস্ক আনা হয়নি।’
মাস্ক ছাড়াই পরিবার নিয়ে টিকিট কাটতে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন মো. তানভীর। মাস্ক পরার নির্দেশনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের এমন কোনো নির্দেশনা আছে বলে জানতাম না। আজই জানলাম। এখন থেকে মাস্ক পরে উঠবো।’ তবে কিছু যাত্রীকে মাস্ক পরার নিয়ম মানতে দেখা গেছে। তাদের একজন অ্যাডভোকেট মো. কাসেম বলেন, আমি শুনেছি মেট্রোরেলে মাস্ক পরার নিয়ম করা হয়েছে। দেশে করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাচ্ছে। তাই নিজে থেকেই সতর্ক হয়ে মাস্ক পরে এসেছি। আমার বাচ্চাদেরও মাস্ক পরিয়ে এনেছি।’