এ যেন মদ্রি¬চের বছর

স্বপ্নের মতো বছরে আরেকটু রঙ চড়িয়ে এবার ব্যালন ডি অরও জিতলেন লুকা মদ্রিচ। এর ফলে পুরস্কারটিতে লিওনেল মেসি এবং ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দশ বছরের প্রাবল্যে ছেদও টানলেন ক্রোয়েশিয় ও রিয়াল মাদ্রিদের এই মিডফিল্ডার।

মদ্রিচ এই বছর রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে টানা তৃতীয় চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয় করেছেন। জাতীয় দলেও সাফল্য লুটিয়ে পড়েছে তার পায়ে। ক্রোয়েশিয়াকে প্রথম বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে তুলতে মুখ্য ভূমিকায় ছিলেন ৩৩ বছর বয়সী মদ্রিচ।

মেসি-রোনালদোকে দর্শকের আসনে বসিয়ে শেষবার অন্য কেউ ব্যালন ডি অর জেতার ঘটনাটি প্রায় ১১ বছরের পুরনো। ২০০৭ সালে ব্যালন ডি অর জিতেছিলেন সাবেক ব্রাজিল এবং এসি মিলান মিডফিল্ডার কাকা।

গেলবারের ব্যালন ডি অর জয়ী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো আছেন তালিকার দ্বিতীয় স্থানে। বার্সেলোনা অধিনায়ক মেসি আছেন পঞ্চম স্থানে। এ বছর ফ্রান্সকে বিশ্বকাপ জেতানোয় মোক্ষম ভূমিকা পালন করা আন্তোনিও গ্রীজমান এবং কিলিয়ান এমবাপে আছেন যথাক্রমে তৃতীয় এবং চতুর্থ স্থানে। 

এর আগে ফিফা বর্ষসেরা পুরস্কার এবং বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার গোল্ডেন বল জিতেছিলেন লুকা মদ্রিচ। এবার ব্যালন ডি অরও বগলদাবা করায় নিশ্চিতভাবেই এটিকে মদ্রিচের বছর বলে দেয়া যায়।

ব্যালন ডি অর জেতার প্রতিক্রিয়ায় বিবিসির সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে অবশ্য বেশ বিনয়ীই ছিলেন রিয়াল মিডফিল্ডারটি। এ পুরস্কারকে তিনি উত্সর্গ করলেন শেষ দশ বছরে মেসি ও রোনালদোর ছায়ায় পড়ে ব্যালন ডি অর না জেতা সেরা খেলোয়াড়দের।

ক্রোয়েশিয় এই খেলোয়াড় বলেন, ‘অতীতে সম্ভবত এমন কিছু খেলোয়াড় ছিলেন যারা জিততে পারতেন। এই যেমন, জাভি, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা কিংবা ওয়েসলি স্নাইডার। কিন্তু অবশেষে মানুষ এখন অন্য কাউকে দেখছে। এই পুরস্কারটি সেইসব খেলোয়াড়দের জন্য যারা সম্ভবত জেতার যোগ্য ছিল কিন্তু জিততে পারেনি। এটি আমার জন্য বিশেষ একটি বছর।’

মেসি রোনালদোকে ‘বিস্ময়কর’ বলে আখ্যা দিয়ে মদ্রিচ জানিয়েছেন তাদের টপকে এ পুরস্কার জিততে পারার জন্য বিশেষ কিছুই করতে হতো তাকে। ক্রোয়াট মিডফিল্ডারের বিশ্বাস তিনি বিশেষ কিছুই করেছেন। বিশ্বকাপের গোল্ডেন বলজয়ীর ভাষায়, ‘এটা জয়ের মানে আমি এই বছর মাঠে সত্যিই বিশেষ কিছু করেছি। এ কারণেই ২০১৭-১৮ আমার বছর ছিল।’ এ বছর ব্যালন ডি অরের সেরা ৩০ জনের তালিকায় ছিল রিয়াল মাদ্রিদের খেলোয়াড়দের জয়জয়কার। মদ্রিচ ছাড়াও ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নদের আরও সাতজন খেলোয়াড় ছিলেন সেরা ত্রিশে।

এ বছর ব্যালন ডি অর অনুষ্ঠানে দুটি নতুন পুরস্কার যোগ করা হয়। প্রথমবারের মতো নারী ব্যালন ডি অর জেতেন ২৩ বছর বয়সী লিঁও এবং নরওয়ে স্ট্রাইকার আদা হেগারবার্গ। সেরা অনূর্ধ্ব ২১ খেলোয়াড়ের পুরস্কারটি জেতেন ১৯ বছর বয়সী কিলিয়ান এমবাপে। 

২০০৮ সাল থেকে ছিল মেসি রোনালদোর প্রাধান্য

২০০৭          কাকা                রোনালদো       মেসি

২০০৮          রোনালদো         মেসি               ফার্নান্দো তোরেস

২০০৯           মেসি                রোনালদো       জাভি

২০১০           মেসি                ইনিয়েস্তা          জাভি

২০১১           মেসি                রোনালদো       জাভি

২০১২           মেসি                রোনালদো       ইনিয়েস্তা

২০১৩           রোনালদো         মেসি               রিবেরি

২০১৪           রোনালদো         মেসি               ম্যানুয়েল ন্যুয়ার

২০১৫           মেসি                রোনালদো       নেইমার

২০১৬           রোনালদো         মেসি               নেইমার

২০১৭           রোনালদো         মেসি               নেইমার

২০১৮           লুকা মদ্রিচ         রোনালদো       গ্রিজম্যান

সেরা ১০

প্রথম     :    লুকা মদ্রিচ (রিয়াল মাদ্রিদ, ক্রোয়েশিয়া)

দ্বিতীয়   :    ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো (রিয়াল মাদ্রিদ/জুভেন্তাস, পর্তুগাল)

তৃতীয়    :    আন্তোনিও গ্রিজমান (অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ, ফ্রান্স)

চতুর্থ     :    কিলিয়ান এমবাপে (পিএসজি, ফ্রান্স)

পঞ্চম    :    লিওনেল মেসি (বার্সেলোনা, আর্জেন্টিনা)

ষষ্ঠ       :    মোহামেদ সালাহ (লিভারপুল, মিশর)

সপ্তম     :    রাফায়েল ভারানে (রিয়াল মাদ্রিদ, ফ্রান্স)

অষ্টম     :    এডেন হ্যাজার্ড (চেলসি, বেলজিয়াম)

নবম     :    কেভিন ডি ব্রুইন (ম্যানচেস্টার সিটি, বেলজিয়াম)

দশম     :    হ্যারি কেইন (টটেনহ্যাম হটস্পার, ইংল্যান্ড)