অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, দেশের সরকারি ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমেছে। একইসঙ্গে ব্যাংকগুলো সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নিয়ে এসেছে। বাকি ব্যাংকগুলোও এটি বাস্তবায়ন করবে। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) সঙ্গে বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘খেলাপি ঋণ নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। আমি শপথ নেওয়ার সময় বলেছিলাম, খেলাপি ঋণ আর বাড়বে না। কিন্তু গণমাধ্যমে বেড়েছে বলা হলেও আসলে তা বাড়েনি। পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, ২০১৮ সালের তুলনায় খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমে এসেছে।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারি ব্যাংকগুলোতে সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নেমে এসেছে। সব ব্যাংকে আমরা সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনব। সিঙ্গেল ডিজিট না হলে খেলাপি ঋণ বাড়ে। ফলে ঋণগ্রহীতা ও ব্যবসায়ী উভয়কেই লাভবান করতে আমরা এটি করতে চাইছি।’ খেলাপির হার কমে এসেছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী জানান, ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে সোনালী ব্যাংকে খেলাপি ঋণ ছিল ৩০ দশমিক ৩৮ শতাংশ, ২০১৯ জুনে এসে দাঁড়িয়েছে ২৫ শতাংশ। জনতা ব্যাংকে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে ছিল ৩৭ দশমিক ৩২ শতাংশ, ২০১৯ জুনে এসে দাঁড়িয়েছে ৩৫ দশমিক ১৮ শতাংশ। অগ্রণী ব্যাংকে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে ছিল ২০ দশমিক ২৫ শতাংশ, ২০১৯ সালের জুনে দাঁড়িয়েছে ১৪ দশমিক ৫০ শতাংশ, রূপালী ব্যাংকে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে ছিল ১৭ দশমিক ৯২ শতাংশ, ২০১৯ সালের জুনে দাঁড়িয়েছে ১৭ শতাংশ। বেসিক ব্যাংকে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে ছিল ৫৭ দশমিক ৫৫ শতাংশ, ২০১৯ সালের জুনে দাঁড়িয়েছে ৫৮ দশমিক ২৫ শতাংশ। বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে ছিল ৫৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ, ২০১৯ সালের জুনে দাঁড়িয়েছে ৫৬ দশমিক ৩৫ শতাংশ। তিনি আরও জানান, বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মধ্যে কৃষি ব্যাংকে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে ছিল ১৮ দশমিক ৪৬ শতাংশ, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে ছিল ২৩ শতাংশ। এ দুটি ব্যাংকের ডিসেম্বরের পর কোনো হিসাব পাওয়া যায়নি, তবে উল্লেখযোগ্য হারে খেলাপি কমেছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ব্যাংকিং খাতকে আরও জোরদার করতে যোগাযোগ অব্যাহত রাখব। যারা ঋণখেলাপির মাধ্যমে ত্রুটি-বিচ্যুতি তৈরি করেছে, তারা টাকা ফেরত দিতে চাইলে আমরা তা গ্রহণ করব। কিন্তু যারা টাকা দেশের বাইরে নিয়ে গেছে কিংবা বালিশের নিচে রেখে দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেব। জনতা ও ফার্মার্স ব্যাংকের মালিকের পরিবারের সদস্যরাও জেলে আছে।’ আইন আইনের গতিতে চলবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। প্রতিটি ব্যাংকে সেবা উইং চালু করার নির্দেশ দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাজ সেবা বিক্রি করা। কোথাও আর্থিক খাতের অভিযোগ থাকলে অভিযোগ দিন। বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার উপস্থিত ছিলেন।