জবানবন্দি প্রত্যাহারে মিন্নিকে আদালতে তলবের আবেদন গৃহীত হয়নি

বরগুনায় আলোচিত রিফাত হত্যা মামলার প্রধান প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী নিহত রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রত্যাহারের জন্য তাকে আদালতে তলব এবং হাসপাতালে নিয়ে চিকিত্সার ব্যবস্থা করার জন্য তার আবেদন গ্রহণ করেনি আদালত।

মিন্নির পক্ষে নিযুক্ত আইনজীবী বরগুনা জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মাহাবুবুল বারী আসলাম গতকাল সোমবার বেলা ১১টার দিকে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজীর আদালতে উক্ত আবেদন করেছিলেন। মিন্নির পক্ষে নিযুক্ত অ্যাডভোকেট মাহাবুবুল বারী আসলাম বলেন, স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রত্যাহারের জন্য মিন্নির স্বাক্ষর দরকার। যে কারণে তিনি মিন্নিকে আদালতে তলব ও হাসপাতালে নিয়ে উন্নতমানের চিকিত্সা করানোর অনুমতি চেয়ে বিচারকের কাছে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু বিচারক তার আবেদন ফেরত দিয়ে আইনের মধ্য দিয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদন করতে বলেছেন। আইনজীবী এ প্রতিনিধিকে জানান, মঙ্গলবার (আজ) তারা কারা কর্তৃপক্ষের কাছে মিন্নির মাধ্যমে আবেদন করবেন।

আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে গত ১৬ জুলাই রাতে পুলিশ গ্রেফতার করে। পরদিন তাকে ৫ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। তবে  দুদিন পরই ১৯ জুলাই মিন্নিকে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজীর আদালতে হাজির করে তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেওয়া হয়। ওইদিন রাতেই মিন্নিকে বরগুনা কারাগারে পাঠানো হয়।

মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর বলেন, গত ২০ জুলাই তিনিসহ পরিবারের সদস্যরা বরগুনা কারাগারে মিন্নির সাথে দেখা করেন। এসময় মিন্নি তাদেরকে জানান যে তাকে নির্যাতন করে ও ভয়ভীতি দেখিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। মিন্নি তার উন্নত চিকিত্সার ব্যবস্থা করার জন্য আমাদেরকে অনুরোধ করে।

রিশান ফরাজীর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

রিফাত শরীফ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ৩ নম্বর আসামি রিশান ফরাজী হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। গতকাল সোমবার বিকাল সোয়া ৪টার দিকে তাকে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজীর আদালতে হাজির করা হয়। সন্ধ্যার দিকে রিশান স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বরগুনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হুমায়ুন কবির এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।