লবণ আমদানিতে বেশি লাভ। ফলে সোডিয়াম সালফেটের আড়ালে দেদারছে সোড়িয়াম ক্লোরাইড আমদানির অভিযোগ উঠেছে। আমদানি করা লবণের দাম কম হওয়ায় দেশে উত্পাদিত লবণ বাজারে প্রতিযোগিতায় ঠিকতে পারছে না। দেশীয় লবণের দাম বস্তাপ্রতি (৭৫ কেজি) আরো ৭০/৮০ টাকা কমে গেছে। এতে বিপাকে পড়েছে চাষি ও মিল মালিকরা। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সোডিয়াম সালফেট রপ্তানিজাত পণ্য উত্পাদনে ব্যবহারের কারণে আমদানি শুল্ক কম। এই সুযোগে কিছু অসাধু আমদানিকারক সোডিয়াম সালফেটের নাম দিয়ে সোডিয়াম ক্লোরাইড (খাবার লবণ) আমদানি করছে। ফলে ভয়াবহ ঝুঁকিতে আছে দেশি লবণ শিল্প।
লবণ ব্যবসায়ীরা জানান, সোডিয়াম সালফেট সাধারণত টেক্সটাইল,গার্মেন্টস ও ওষুধ কোম্পানি গুলো ব্যবহার করে। ২০১৫ সাল থেকে সোডিয়াম সালফেটের আড়ালে সোডিয়াম ক্লোরাইড আমদানি বেড়েই চলেছে। প্রতি মাসে ৫০ হাজার টন সোডিয়াম সালফেট আমদানি হচ্ছে। চীন ও ভারত থেকে এসব আমদানি করা হয়। জানা যায়, এবার ১৮ লাখ ২৪ হাজার মেট্রিক টন লবণ উত্পাদন হয়েছে যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি। তবে প্রান্তিক চাষিরা ন্যায্যমূল্য না পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক চাষি লবণের দাম না পেয়ে মাটির নিচে গর্ত করে মজুত করে রেখেছে। কিন্তু এখন লবণের দাম আরো কমে গেছে। দাম কমে যাওয়ায় মিল মালিকরাও পরিশোধিত লবণ নিয়ে বিপাকে পড়েছে।
এদিকে, সোডিয়াম সালফেটের আড়ালে খাবার লবণ আমদানিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিসিক কর্মকর্তারা। এ ব্যাপারে বিসিক কক্সবাজার কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক সৈয়দ আহমেদ ইত্তেফাককে বলেন, সোডিয়াম সালফেট ও সোডিয়াম ক্লোরাইড দুটিই আমদানি হচ্ছে। সোডিয়াম সালফেট আমদানি শুল্ক কম হওয়ার সুযোগটির অপব্যবহার করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে লবণের দাম আরো কিছুটা কমে গেছে।’
মৌসুমের সময় প্রতি মণ ২২০ থেকে ২৩০ টাকায় বিক্রি করতে হয়েছে। ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি করলে তারা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারতেন। কিন্তু এই দরে লবণ কেউ কিনেনি। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ লবণ চাষি কল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কায়সার ইদ্রিস ইত্তেফাককে বলেন, লবণ নীতিমালায় উল্লেখ রয়েছে শিল্প মালিকরা নিজেদের প্রয়োজনের চাহিদা অনুপাতে সরকারের অনুমোদন নিয়ে সোডিয়াম সালফেট আমদানি করতে পারবেন। কিন্তু এখন সবাই আমদানি করছে। সরকারের উচিত জরিপ করে সোডিয়াম সালফেটের চাহিদা নির্ধারণ করে আমদানির সুযোগ দেওয়া। অন্যথায় দেশের লবণ শিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে। এখনো প্রান্তিক চাষিদের কাছে প্রচুর লবণ মজুত রয়েছে।’।
সংশ্লিষ্টরা জানান, চীন ও ভারত থেকে সোডিয়াম সালফেটের আড়ালে আমদানি করা লবণের খরচ অনেক কম পড়ে। ফলে বাজারে এসব লবণ কেজি ১০/১১ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর দেশীয় লবণ কেজি ১৭/১৮ টাকার কম বিক্রি করা যাচ্ছে না।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ লবণ মিল মালিক সমিতির সভাপতি নূরুল কবির ইত্তেফাককে বলেন, ‘সোডিয়াম সালফেটের আড়ালে দেদারছে সোডিয়াম ক্লোরাইড আমদানি হচ্ছে। এতে মিল মালিকরা পরিশোধিত লবণ নিয়ে বিপাকে পড়েছে।’