পরিকল্পিত নগরায়ণের অংশ হিসেবে কক্সবাজার শহরের ‘হলিডের মোড়-বাজারঘাটা হয়ে লারপাড়া বাসস্ট্যান্ড’ পর্যন্ত প্রধান সড়ক চার লেনে উন্নীত হচ্ছে। শহরের সৌন্দর্য বর্ধন ও যানজট নিরসনের লক্ষ্যে ২৯৪ কোটি ১৪ লাখ ৮৪ হাজার টাকায় সড়কটি চার লেন করার প্রকল্প নিয়েছে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক)।
পর্যটনের গুরুত্ব বিবেচনায় সম্প্রতি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন হয়েছে। একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুমোদিত প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে জুন ২০২১।
সূত্র মতে, কক্সবাজার শহরের প্রধান সড়কটি প্রয়োজনের তুলনায় কম প্রশস্ত হওয়ায় যানজট লেগেই থাকছে। এতে সবশ্রেণি পেশার মানুষের কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে প্রতিদিন। এভাবে বাড়তে থাকা নাগরিক দুর্ভোগ লাগবে নেওয়া প্রকল্পটি একনেকেও অনুমোদন পেয়েছে।
কউক সূত্র মতে, সড়কটি সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের। সওজের সঙ্গে সমঝোতা করে গত আড়াই বছর ধরে প্রকল্পটি নিয়ে কাজ করছে কউক। সওজের গেজেট অনুযায়ী উভয় পাশে উল্লেখযোগ্য জায়গার পুরোটাই ব্যবহার করে প্রকল্পের আওতায় ৫ দশমিক ২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সড়কটি চার লেন হবে। প্রকল্প পুরোপুরি সম্পন্ন হলে পরবর্তী রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সওজকেই হস্তান্তর করা হবে সড়কটি।
কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) চেয়ারম্যান লে. কর্নেল (অব) ফোরকান আহমদ বলেন, প্রকল্পের আওতায় আসা প্রধান সড়ক প্রশস্ত ও নিরাপদ করতে প্রয়োজনীয় এলাকায় ফুটওভারব্রিজ, ড্রেন, কালভার্ট, ফুটপাত ও সাইকেল ওয়ে নির্মাণ হবে। এছাড়া সবুজায়নের পাশাপাশি স্থাপন করা হবে সড়ক বাতি, সিসি ক্যামেরা এবং ওয়াইফাই সংযোগ। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে যানজট নিরসন ও শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে। বিগত কয়েক বছরের পরিশ্রম, হাজারো জটিলতা পেরিয়ে প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়ায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে কক্সবাজারবাসী কৃতজ্ঞ।
কক্সবাজারের প্রধান সড়কের হোটেল ও শপিং কমপ্লেক্স ব্যবসায়ী আজিজ মওলা চৌধুরী বলেন, কক্সবাজার এখন বিশ্বমানের পর্যটন নগরী। কিন্তু সেভাবে শহরের সড়কগুলো উন্নত নয়। বর্তমান সরকারের আমলে নেওয়া জেলাজুড়ে অর্ধশতাধিক মেগাপ্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। এরই মাঝে প্রধান সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। এটি বাস্তবায়িত হলে শহরের চিত্র পালটে যাবে।