৪০ লাখ টাকা ঘুষ কেলেঙ্কারি মামলার আসামি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাময়িক বরখাস্ত পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরকে সোমবার রাতে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার আইনজীবী কামাল হোসেন জানান, রাত ১০টা ২০ মিনিটের দিকে দারুসসালামের লালকুঠি এলাকার তার এক আত্মীয়ের বাসা থেকে বাছিরকে গ্রেফতার করেছে দুদক।
দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপপরিচালক প্রণব ভট্টাচার্য বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দুদকের উপপরিচালক ফানাফিল্লাহ নেতৃত্বে একটি এনফোর্সমেন্ট টিম রাজধানীর শাজাহানপুর ও আজিমপুরে তিন দফা অভিযান চালায়। পরে মিরপুরের লালকুঠি এলাকার তার এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে এনামুল বাছিরকে গ্রেফতার করা হয়। রাতেই তাকে রমনা থানায় রাখা হয়।
ঘুষ লেনদেনের ঘটনায় বাছিরসহ পুলিশের বরখাস্তকৃত ডিআইজি মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে গত ১৬ জুলাই দুদকের পরিচালক ও অনুসন্ধান দলের নেতা শেখ মো. ফানাফিল্লাহ বাদী হয়ে দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ডিআইজি মো. মিজানুর রহমান (সাময়িক বরখাস্ত) এর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জন সংক্রান্ত একটি অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশন অনুসন্ধানের জন্য গৃহীত হয়। উক্ত অভিযোগটি অনুসন্ধানের জন্য বিগত ২০১৮ সালের ২৫ অক্টোবর খন্দকার এনামুল বাছিরকে নিয়োগ করা হয়। অনুসন্ধান চলমান থাকাবস্থায় গত ৯ জুন বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হয় যে দুদক পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছির ডিআইজি মো. মিজানুর রহমানের কাছ থেকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণ করেছে। এই বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনের গোচরিভূত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাত্ক্ষণিকভাবে উচ্চপর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। উক্ত তদন্ত কমিটি তাত্ক্ষণিকভাবে খন্দকার এনামুল বাছিরের বক্তব্য গ্রহণ করেন এবং পারিপার্শ্বিক বিষয়াদি পর্যালোচনা করে খন্দকার এনামুল বাছির কর্তৃক ডিআইজি মো. মিজানুর রহমানের নিকট হতে ঘুষ গ্রহণের বিষয়ে প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে কমিশনের প্রতিবেদন দাখিল করেন। অতঃপর কমিশন বিষয়টি অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ৩ সদস্য বিশিষ্ট ১টি অনুসন্ধান টিম গঠন করে।
অনুসন্ধানকালে দুদক প্রমাণ পায় যে, ডিআইজি মো. মিজানুর রহমান গত ১৫ জানুয়ারি রমনা পার্কে একটি বাজারের ব্যাগে করে কিছু বইসহ ২৫ লাখ টাকা খন্দকার এনামুল বাছিরকে প্রদান করেন। এরপর ২৫ ফেব্রুয়ারি ডিআইজি মো. মিজানুর রহমান অপর একটি শপিং ব্যাগে করে ১৫ লাখ টাকা রমনা পার্কে গিয়ে খন্দকার এনামুল বাছিরকে দেন। এ নিয়ে ডিআইজি মো. মিজানুর রহমান মোট ৪০ লাখ টাকা ঘুষ প্রদান করেন এনামুল বাছিরকে। এছাড়া ডিআইজি মিজানুর রহমান ও খন্দকার এনামুল বাছিরের মধ্যকার বিভিন্ন তারিখে কথোপকথন পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, খন্দকার এনামুল বাছির তার ছেলেকে ঢাকার কাকরাইলের ‘উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল’ থেকে আনা-নেওয়ার জন্য ডিআইজি মো. মিজানুর রহমানের নিকট একটি গাড়ি দাবি করেছেন। তাছাড়া গাড়ি দাবির বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বিভাগীয় তদন্ত টিমের নিকটও বক্তব্য প্রদান করেছেন। যা দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারা ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২)(৩) ধারারও অপরাধ।