ব্যাংকিং খাতে ক্রেতাসেবায় পুনরাবৃত্তিমূলক কাজে রোবোটিক প্রসেস অটোমেশন বা কৃত্রিম বুদ্বিমত্তা এবং মেশিন লার্নিং প্রযুক্তি সংযুক্ত সফটওয়্যারের ব্যবহার নিশ্চিত করবে সুলভে আধুনিক ক্রেতাসেবা। এন্টারপ্রাইজ বিজনেস খাতে অটোমেশন জনপ্রিয়করণে এবং দেশীয় ব্যাংকিং খাতের সেবার মানোন্নয়নে আরপিএ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেন এন্টারপ্রাইজ সামিট-২০১৯-এ আগত বক্তারা। আজ রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে অনুষ্ঠিত হলো এন্টারপ্রইজ সামিট-২০১৯। প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত এই সামিট যৌথভাবে আয়োজন করেছে সিটিও ফোরাম বাংলাদেশ এবং ইউআই প্যাথ।
সামিটে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হাইটেক পার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হোসেন আরা বেগম, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা এবং প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউশনের মহাব্যবস্থাপক জনাব শুশান্ত কুমার সাহা, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক পার্থ প্রতিম দেব, টেলিযোগাযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মো. মহসিনুল আলম, এলআইসিটি প্রকল্পের প্রকল্পপ্রধান রিজাউল করিম এবং ইউআই প্যাথের রিজিওনাল ম্যানেজার শুভ্রাংশু মুখার্জী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিটিও ফোরামের সভাপতি তপন কান্তি সরকার।
স্বাগত বক্তব্যে তপন কান্তি সরকার বলেন, দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সংশ্লিষ্ট তথ্যপ্রযুক্তিবিদদের মেধা ও যোগ্যতার উন্নয়ন এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে তাদের ব্যক্তিগত উন্নয়নসহ আইসিটি শিল্পে উন্নয়নে কাজ করছে সিটিও ফোরাম বাংলাদেশ। ইউপ্যাথ বিশ্বে প্রথম সারির প্রতিষ্ঠান, যারা মেশিনে লার্নিং এবং কৃত্রিম বুদ্বিমত্তাসম্পন্ন সফটওয়্যার বা আরপিএর মতো ইনোভেটিভ সল্যুশন-সেবা নিয়ে কাজ করে। ইনোভেটিভ এই উদ্ভাবন প্রয়োগের মাধ্যমে এন্টারপ্রাইজ পর্যায়ে আটোমেশন অনেকটাই সহজ। ব্যাংকিং খাতে ক্রেতাসেবা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যেখানে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যথেষ্ট সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়। এ কাজগুলো সাধারণত পুনরাবৃত্তিমূলক হলেও এই সেবা নিশ্চিতকরণ ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ। এ ধরনের সেবা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তথ্য প্রদানমূলক, তাই এতে ভুল হওয়ার ঝুঁকিও থাকে। এই সেবা প্রদানে রোবোটিকস প্রসেস অটোমেশন লার্নিং এবং কৃত্রিম বুদ্বিমত্তাসম্পন্ন সফটওয়্যার বা আরপিএ ব্যবহারের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে আমাদের দেশে। আজকের আয়োজনের মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশে আরপিএ প্রযুক্তিসেবার সম্ভাবনার বিষয়গুলো নিয়েই শুনব এবং জানব এই সেবার প্রায়োগিক সুফল সম্পর্কে। এই উন্নত সেবা প্রদানে ইউআই প্যাথ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান, তাই আমরা তাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছি আমাদের দেশে এন্টারপ্রাইজ সল্যুশন হিসেবে এই সেবায় পরিচয় করিয়ে দিতে। আমরা বিশ্বাস করি, এই প্রযুক্তিসেবা অটোমেশনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের মাধ্যমে দেশকে ডিজিটালাইজেশনে এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে হোসনে আরা বেগম বলেন, বাংলাদেশ এখন ডিজিটাল রূপান্তরের পথে, যেখানে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসেবার প্রয়োগ ও ব্যবহারে আমরা উত্সাহী। এক্ষেত্রে ব্যাংকিং সেক্টরে কর্মরত প্রযুক্তি কর্মকর্তারা অগ্রগামী ভূমিকা রাখতে পারেন। কারণ প্রাতিষ্ঠানিক বা অবকাঠামোগতভাবে ব্যাংকিং খাত নতুন নতুন প্রযুক্তির ব্যবহারে সহজে এগিয়ে আসতে পারে। প্রযুক্তির এই যুগে দেশের বাজারে এ ধরনের প্রযুক্তিকে পরিচয় করে দেওয়ার জন্য সিটিও ফোরামের এই আয়োজনকে আমি সাধুবাদ জানাই, এবং বিশ্বাস করি যে দেশের ব্যাংকিং খাতে এই প্রযুক্তি প্রয়োগে তারা উত্সাহিত হবেন। কেননা, এভাবে প্রতিটি শিল্প খাত যদি অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে উত্সাহিত হয়, তবে এর সুফল ভোগ করতে দেশের সব জনগণ এবং শিল্প খাতসমূহের উন্নয়নে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে বিশ্ব প্রতিযোগিতায়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউশনের মহাব্যবস্থাপক শুশান্ত কুমার সাহা, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক পার্থ প্রতিম দেব, টেলিযোগাযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মো. মহসিনুল আলম, এলআইসিটি প্রকল্পের প্রকল্পপ্রধান জিয়াউল হাসান, ইউআই প্যাথের রিজিওনাল ম্যানেজার শুভ্রাংশু মুখার্জী প্রমুখ।