ডেঙ্গু আশঙ্কাজনক রূপ ধারণ করছে। ফলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে অ্যাডিস মশা জন্মানোর স্থান ধ্বংস এবং জাতীয়ভাবে একটি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা জরুরি। ডেঙ্গু মশা প্রজননের স্থান ধ্বংস করতে নাগরিকদের পাশাপাশি সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ডভিত্তিক কর্মকর্তাদের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে সংক্রামক ব্যাধি আইন-২০১৮ এবং সিটি করপোরেশন আইনের অধীনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। গতকাল মঙ্গলবার পবা মিলনায়তনে ‘দেশব্যাপী ডেঙ্গুর বিস্তার : জাতীয় কর্মপরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা), ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট, গ্রীণ ফোর্স, বানিপা, বিসিএইচআরডি যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে। পবার চেয়ারম্যান আবু নাসের খানের সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংগঠনের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ডা. লেলিন চৌধুরী।
আবু নাসের খান বলেন, এখন প্রশ্ন উঠেছে রাজধানী থেকে সারা দেশে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ার দায় কার? কার বা কাদের দায়িত্ব অবহেলার কারণে দেশ আজ একটি ভয়াবহ অবস্থার সম্মুখীন হয়েছে? দায়ীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে কি?
ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী ডেঙ্গুতে মোট ২৬ জন ইতিমধ্যে মৃত্যুবরণ করেছে। এর মধ্যে জানা গেছে, ঢাকা সিটি করপোরেশন দুই ঢাকায় মশা মারার জন্য যে ওষুধ ছিটিয়ে আসছিল তা মশার বিরুদ্ধে কার্যকর নয়। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধে সর্ব্বোচ গুরুত্ব প্রদান করা এখন সময়ের দাবি।
বক্তারা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে অবিলম্বে একটি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হোক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ ও গাইড লাইন অনুযায়ী এটি প্রণীত হতে পারে। তাছাড়া ডেঙ্গু মশার জন্মস্থান ধ্বংসে নাগরিকদের এবং ওয়ার্ডের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের নিজ নিজ আওতাধীন এলাকায় মনিটরিং সেল স্থাপন এবং নির্দেশনা বাস্তবায়নের ব্যর্থতার আইন অনুসারে শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, জাতীয় কর্মপরিকল্পনায় সকল স্তরের জনপ্রতিনিধি, সকল স্তরের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যুক্ত করতে হবে। প্রত্যেককে স্ব স্ব ফোরামে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।
তারা বলেন, ডেঙ্গু মশার প্রজননক্ষেত্র ধ্বংস করার অভিযানে স্থানীয় সরকার, কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মকর্তা-কর্মচারী, পুলিশ, আনসার-ভিডিপি, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, বয়স্কাউট-গার্লস গাইড এবং ছাত্রছাত্রীদের যুক্ত করা হোক। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সেনা-নৌ-বিমান বাহিনী এবং বিজিবিকেও এ কাজে যুক্ত করা যেতে পারে। একই সঙ্গে তারা ডেঙ্গুর টিকা আবিষ্কারের গবেষণায় প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের পরিচালক গাউস পিয়ারী, পবার সম্পাদক সৈয়দ মাহবুবুল আলম তাহিন, গ্রীণ ফোর্সের সদস্য মেসবাহউদ্দিন আহমেদ সুমন, কবি কামরুজ্জামান ভুঁইয়া, প্রকৌশলী মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।