প্ল¬াবিত গাইবান্ধায় সাহায্যের আবেদন

প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের দিক দিয়ে পিছিয়ে নেই গাইবান্ধা। এর প্রধান কারণ হলো, এখানকার অধিকাংশ অঞ্চলই নিম্নভূমি এবং যমুনা ও তিস্তা নদী বেষ্টিত চরাঞ্চল। ফলে আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে ভয়াবহ বন্যার শিকার হতে হয় এসব নিম্ন অঞ্চলে বসবাসরত মানুষদের। প্রতিবছর বন্যার ক্ষয়ক্ষতির একটা নির্দিষ্ট মাত্র থাকলেও এবছর সে মাত্রা ছাড়িয়েছে কয়েকগুণ বেশি। অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙে বিপত্সীমার ১৪১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে পানি। এরপরও পানি ক্রমশ বাড়ছে তো বাড়ছেই। দুই লক্ষাধিক মানুষ গৃহহারা, ৯৫ শতাংশ ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ পানির নিচে। আসবাবপত্র ভেসে যাচ্ছে বন্যার পানিতে। গৃহপালিত পশুপাখিকে পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি। মানুষ যাই হোক যেভাবে পারুক উঁচুতে টং পুঁতে কোনো রকমে বেঁচে থাকলেও গৃহপালিত পশুপাখির কষ্ট সহ্য করা যায় না। গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়ি ইউনিয়নে এই বন্যা আরো প্রকট আকার ধারণ করেছে; কারণ ফুলছড়ি ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকাজুড়েই যমুনা নদী চর বেষ্টিত এলাকা। এখানে প্রায় ৯৯ শতাংশ বাড়িতে পানি উঠেছে। ঘরের চালা ডুবে গেছে প্রায় ৮০ শতাংশ ঘরবাড়ির। এমনকি ফুলছড়ির প্রত্যেকটি স্কুল এখন পানির নিচে। কোনো আশ্রয়কেন্দ্র না থাকায় মানুষ এখন কী যে কষ্টে আছে তা বর্ণনাতীত! এ অবস্থায়, তাদের কাছে জরুরিভিত্তিতে পৌঁছানো দরকার শুকনো খাবার, স্যালাইন এবং সুপেয় পানি। বিভিন্ন দাতাগোষ্ঠীর কাছে অনুরোধ—আসুন তাদের পাশে, সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন।

জসিম উদ্দীন

ফুলছড়ি, গাইবান্ধা