মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে স্বীকৃতি চাই

আমি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট। ১৯৭১ সালে ৫ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে তত্কালীন পশ্চিম পাকিস্তানে কর্মরত ছিলাম। আমরা ৫ম ইস্ট বেঙ্গলের সকল পদবির সৈনিক ৬ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে একত্র হয়ে পরিকল্পনা করি যে, পাকিস্তান থেকে ভারত হয়ে নিজ নিজ অস্ত্র ও গোলাবারুদ নিয়ে বাংলাদেশে পৌঁছে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেব। পরিকল্পনা অনুযায়ী ঐ রাত্রিতেই সৈনিকগণ পর্যায়ক্রমে পাকিস্তানের বর্ডার পার হয়ে ভারতে প্রবেশ করতে আরম্ভ করেন। প্রায় ২৫০-৩০০ সৈনিক লাহোর সাইফুন বর্ডার পার হয়ে ভারতে ঢোকেন। দুর্ভাগ্য আমাদের বাকি সৈনিকদের—সাইফুন বর্ডারে রাভী নদী পার হওয়ার সময় ৪৩ বেলুচ রেজিমেন্টের সৈনিকদের হাতে আমরা আনুমানিক ৩০০ সৈনিক ধরা পড়ে যাই। তারপর আমাদের লাহোর কোটলাকপথ জেলখানায় বন্দি করে রাখা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের সময় চোখ বাঁধা থাকত। যাঁরা ভারতে যেতে সক্ষম হয়েছিলেন, তাঁরা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পারেননি। কারণ তাঁরা বাংলাদেশে পৌঁছার আগেই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়ে গিয়েছিল। তারপরেও তাঁরা মুক্তিযোদ্ধার মর্যাদা পেয়েছেন। পাকিস্তানি সৈন্যদের হাতে ধরা না পড়লে আমাদেরও উদ্দেশ্য সফল হতো। যা হোক, ৫ম ইস্ট বেঙ্গলের সৈনিক ছাড়া পাকিস্তানে যত বাঙালি সৈনিক ছিলেন, তাঁরা কেউ বন্দি হননি। আর আমাদের পাকিস্তানে জেল-জুলুম সহ্য করতে হয়েছে। তাই আমাদের মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে স্বীকৃতি দিতে সরকারের কাছে বিনীত আবেদন জানাই।

গোলাম মোস্তফা

সার্জেন্ট (অব), রেজি. নং ৩৯৪০৪১২,

কাশিল, বাসাইল, টাঙ্গাইল