পাবনার চাটমোহর উপজেলার পার্শ্বডাঙ্গা ইউনিয়নের শ্রীদাসখালী গ্রামে নির্মাণের এক মাসের মধ্যেই একটি সেতুতে ফাটল ধরেছে। ধসে গেছে সেতুর অংশ বিশেষ। বেরিয়ে পড়েছে রড। খুলে পড়ছে পাথর ও সিমেন্ট। নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে তড়িঘড়ি নির্মাণ কাজ শেষ করার ফলে সেতুর এই হাল হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। সেতুর সমস্যার বিষয়ে পার্শ্বডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য নুরুজ্জামান ইসলাম প্রথমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেন। পরবর্তীতে এটি জানাজানি হয়।
তবে কাজ কিনে নেওয়া চাটমোহরের প্রভাবশালী ঠিকাদার সিরাজুল ইসলাম বলেছেন, কাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মাটি ফেলার কারণে কিছুটা সমস্যা হয়েছে। কেন তড়িঘড়ি মাটি ফেলা হলো এ প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি। এদিকে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উপজেলা প্রকৌশলীকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন।
জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সেতু/কালভার্ট শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ২৫ লাখ ৭৪ হাজার ৬৭৯ টাকা ব্যয়ে শ্রীদাসখালী-রাউত্কান্দি সড়কের জাফরের জমির সামনে ৩২ ফুট দৈর্ঘ্য সেতুটি নির্মাণের কাজ পায় সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার মেসার্স সাজেদা এন্ড আতাহার নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। কিন্তু তারা কাজটি করেনি। সেতুটি নির্মাণের জন্য সাব কন্ট্রাক্ট নেয় চাটমোহরের প্রভাবশালী ঠিকাদার সিরাজুল ইসলাম। কাজের শুরুতেই এলাকাবাসী নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে কাজ করতে থাকলে প্রতিবাদ করে। কিন্তু সাব ঠিকাদার ও পিআইও তাতে কর্ণপাত করেননি। অভিযোগ রয়েছে, সেতুর বেশিরভাগ কাজ রাতের আঁধারে সম্পন্ন করা হয়েছে। অতি নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়কে মাটি ফেলা হয়নি। ফলে শ্রীদাসখালী, রাউত্কান্দি ও আব্দুলপুর গ্রামের মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
এ ব্যাপারে মূল ঠিকাদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব না হলেও চাটমোহরের সাব ঠিকাদার সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমি কী বলব। নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করার অভিযোগ সত্য নয়। আমি ও পিআইও স্যার সেতুটি দেখে এসেছি। পিআইও ঢাকায় ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে কথা বলেছেন। যেহেতু জুন ক্লোজিং ছিল, তাই তড়িঘড়ি কিছু মাটি ফেলা হয়। তাই কিছু অংশে সমস্যা দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এস এম শামীম এহসান বলেন, আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে সেতুর ফাটল অংশ দেখেছি। ঢাকায় কথা বলা হয়েছে। ঠিকাদারকে ত্রুটিপূর্ণ কাজ মেরামত করে দিতে বলা হয়েছে।
এ ব্যাপারে চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরকার অসীম কুমার বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর পরই আমি উপজেলা প্রকৌশলীকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। অভিযোগের সত্যতা পেলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।