দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটছে একের পর এক ‘মবকাণ্ড’। এই ধারাবাহিকতায় রাজধানীর উত্তরায়ও মব তৈরি করে চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধ সংগঠিত হচ্ছে। অতিসম্প্রতি কয়েকটি ঘবের ঘটনাকে কেন্দ্র আলোচনায় উঠে এসেছে উত্তরার নাম। বিশেষ করে বিগত নির্বাচনে সিইসির ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ জনতা সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদাকে অবরুদ্ধ এবং হেনস্তা করে। যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল ও আলোচনার জন্ম দেয়। আর এ ঘটনার রেশ না কাটতেই গত শনিবার উত্তরা সেক্টর-৬ এ হোটেল মিলিনায় ঘটে আরেকটি মবকাণ্ড।
র্যাব-১ এর তথ্য মতে, শফিক মোল্লা নামে একজনের নেতৃত্বে প্রায় ২৪ জনের একটি দল ১০টি মোটরসাইকেলে করে হোটেলটি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চালায়। তাদের দাবি, হোটেলের মালিক আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে পূর্বে ব্যবসায়িক চুক্তি ছিল; তবে বাস্তবে সেটি পরিণত হয় সংঘবদ্ধ দখল অভিযানে।
এ ঘটনায় র্যাবের একজন গোয়েন্দা সদস্য দূর থেকে ছবি তুলতে গেলে মবচক্রের সদস্যরা তাকে ঘিরে ফেলে এবং ছবি তোলায় বাধা দেয়। এরপর র্যাব-১ এবং উত্তরা পূর্ব থানার পুলিশ মিলে ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে ৯ জনকে আটক করে।
মবের নামে পিটিয়ে হত্যা, মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া, লুটপাট, হেনস্তা, পদ থেকে সরিয়ে দেয়া, জুতার মালা পরিয়ে ঘোরানো, ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়াসহ সবই করেছে দুর্বৃত্তরা। রাজনীতিবিদ, পুলিশ, শিক্ষক, আইনজীবী, চিকিৎসক থেকে শুরু করে চোর-ডাকাত-ছিনতাইকারীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ মবের শিকার হচ্ছেন। সরকারের পক্ষ থেকে বারবার মবের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানের কথা বলা হলেও বাস্তবে কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।
স্থানীয়দের দাবি, ৫ আগস্টের পর উত্তরায় মব সংক্রান্ত ঘটনার সংখ্যা বেড়েই চলছে। অনেকে বলছেন, রাজনৈতিক শূন্যতার সুযোগে বিভিন্ন চাঁদাবাজি, দখলচক্র ও রাজনৈতিক সুবিধাভোগীরা নিজেদের বলয় পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
আলাউদ্দিন আজাদ নামে একজন বাসিন্দা বলেন, ‘আইনের শাসন না থাকলে মব-ভিত্তিক বিচার বাড়তেই থাকবে, আর তাতে সমাজে ন্যায়বিচারের বদলে ভয় ও বিশৃঙ্খলা জন্ম নেবে।’
এ প্রসঙ্গে কথা হলে পুলিশ এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানায়, আমরা প্রতিটি ঘটনাকেই গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। মব সৃষ্টি করে কোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর সুযোগ নেই। এ ব্যাপারে থানা-পুলিশ সজাগ ও সচেতন রয়েছে। এছাড়া এলাকায় নিয়মিত টহল বাড়ানো হয়েছে।সম্প্রতি কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে, তবে আমরা প্রতিটি ঘটনার তথ্য নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছি।
র্যাব-১ কোম্পানি কমান্ডার মেজর আহনাফ বলেন, মবের বিরুদ্ধে অতীতে জিরো টলারেন্স ছিল এবং ভবিষ্যতেও কোনো মব সৃষ্টিকারীকে বরদাস্ত করা হবে না। উত্তরা এলাকায় সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র্যাব নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে বলেও জানান র্যাবের এই কর্মকর্তা।
উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. মহিদুল ইসলাম (অতিরিক্ত ডিআইজি) বলেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। যদি কারো কাছে কোনা অপরাধীর তথ্য থাকে; অনুরোধ করবো আপনারা আইনশৃঙ্খলা-বাহিনীকে জানান। এছাড়া উত্তরায় যতগুলো মব সংক্রান্ত ঘটনা ঘটেছে, সবগুলো আমরা মনিটরিং করছি। কেউ আইনের বাইরে গিয়ে কিছু করলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। মব জাস্টিস একটি অপরাধ এবং আমরা এটিকে কঠোরভাবে দমন করছি। এসব ঘটনায় কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।