পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার চাঞ্চল্যকর জোড়া খুনের ঘটনায় প্রধান আসামি প্রবাসী ইউনুস আলী শেখকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের পর ইউনুস সৌদি আরবে চলে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সোমবার (৩১ জুন) দিবাগত রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকার দক্ষিণখান থানাধীন আজমপুর জয়নাল মার্কেট সংলগ্ন হাজী সবুর খান রোডের ২২ নম্বর বাড়ি থেকে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-২ এর সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ইউনুস আলী শেখ গত ১৭ জুন জাজিরা এয়ারওয়েজে ফ্লাইট বুক করেন। ওই টিকিট অনুযায়ী ২ জুলাই তার ঢাকা শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে কুয়েত হয়ে সৌদি আরবের কাসিম যাওয়ার কথা ছিল। এতে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি হত্যাকাণ্ডের পরপরই বিদেশে চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন।
জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইউনুস আলী শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে ইন্দুরকানীর চন্ডিপুর ইউনিয়নের পশ্চিম চর বলেশ্বর গ্রামের বাসিন্দা। সম্প্রতি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শহিদুল ইসলাম ও তার ভাবী মুকুলী বেগমকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় তাকে প্রধান আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
ইন্দুরকানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মারুফ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, প্রধান আসামি ইউনুস শেখকে র্যাবের সহযোগিতায় ঢাকার দক্ষিণখান এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে এখন ইন্দুরকানী থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ ও মামলার তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে। ঘটনার রাতেই ইউনুস আলী শেখ এর ভাই রফিকুল শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাকিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
প্রসঙ্গত গত শুক্রবার দিবাগত রাতে চর বলেশ্বর গ্রামে ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম ও তার বড় ভাইয়ের স্ত্রী মুকুলী বেগমকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনুস শেখ তার স্ত্রী শ্যামলী বেগম এর সঙ্গে ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলামের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে সন্দেহ করতেন। এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও পরকীয়ার সম্পর্কের কারণে এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।