ঘরোয়া ক্রিকেটে এখন স্থবির। জুন-জুলাইয়ের এই সময়টাতে আগের মতো অলস বসে নেই বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। জাতীয় দল, ‘এ’ দল, বিসিবি একাদশ, অনূর্ধ্ব-১৯ দল মিলে বাংলাদেশের প্রায় ৬৫ জন ক্রিকেটার এখন বিভিন্ন টুর্নামেন্টে খেলছেন। যুব দল বাদ দিলেও সিনিয়র পর্যায়ের ৪৫ ক্রিকেটার বর্তমানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলছেন। চোট, ব্যক্তিগত ছুটি মিলিয়ে কয়েকজন বাইরে থাকলেও এটুকু বলাই যায় খেলার মধ্যে থাকা এসব ক্রিকেটাররাই হাল সময়ে দেশের শীর্ষ পর্যায়ের।
একই সময়ে এতগুলো টুর্নামেন্ট হওয়ায় নির্বাচকরাও ব্যস্ত সময় পার করছেন। ক্রিকেটারদের ইনজুরি, বদলি ক্রিকেটার বাছাইয়ের কাজটা নিয়মিতই করতে হচ্ছে তাদেরকে। সঙ্গে ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা করা, দলগুলোর ভারসাম্য রক্ষা, ক্রিকেটারদের ফরমহীনতা এবং দলগুলোর ফলাফলেও নজর রাখতে হচ্ছে নির্বাচকদের। গতকাল যেমন ম্যাচের মাঝপথেই ভারতের কর্ণাটকে ইনজুরিতে পড়েছেন সাদমান ইসলাম অনীক। বাঁহাতি এই ওপেনারের বিকল্প নিয়ে ভাবছেন নির্বাচকরা। অনেকের ভারতের ভিসা না থাকায় দ্রুতই সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
এরই মাঝে ক্রিকেটাঙ্গনে জাতীয় দলের নির্বাচকদের নিয়ে নতুন গুঞ্জন শুরু হয়েছে। গতকাল বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচক কমিটিতে পরিবর্তন চাচ্ছে বোর্ডের একাংশ। তাদের চুক্তি নবায়নের বিপক্ষে মত দিয়েছেন কয়েকজন পরিচালক। আগামী ২৭ জুলাই বোর্ড সভায় দুই নির্বাচকের ভাগ্য নির্ধারণ হবে।
মূলত সম্প্রতি ঘরের মাঠে আফগানিস্তানের কাছে ‘এ’ দলের হারেই নির্বাচকদের ওপর চটেছেন অনেকে। কর্ণাটকের মিনি রঞ্জি ট্রফিতে ভালো দল পাঠিয়ে আফগানদের বিরুদ্ধে অপেক্ষাকৃত দুর্বল দল দেওয়া হয়েছে অভিযোগ তুলে নির্বাচকদের দুষছেন কেউ কেউ। যদিও হোম সিরিজে আফগানদের বিপক্ষে ‘এ’ দলের হয়ে খেলেছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলে খেলা ৮-৯ জন ক্রিকেটার। ঘরের মাঠে আফগানিস্তানের উদীয়মান ক্রিকেটারদের সামনে ব্যর্থ হয়েছেন বিজয়-সাব্বিরের মতো ক্রিকেটাররাও।
সূত্র জানায়, বোর্ডের এক প্রভাবশালী পরিচালক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু ও হাবিবুল বাশারকে সরিয়ে দিতে তোড়জোড় করছেন। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ছাড়াও দেশের ইতিহাসে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান মানা হয় নান্নু-হাবিবুলকে। তাদের জায়গায় খালেদ মাসুদ পাইলট, মঞ্জুরুল ইসলাম, জাভেদ ওমর বেলিমের নামই নাকি উচ্চারিত হচ্ছে।
আবার এমন সুরও আছে যে, শেষ পর্যন্ত নান্নুকে সরিয়ে অন্তত এক মেয়াদে হাবিবুলকে প্রধান নির্বাচকের দায়িত্বে দেখতে চান অনেকে।
বিসিবির সঙ্গে নান্নু-হাবিবুলের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে গত ৩০ জুন। নতুন করে চুক্তি হয়নি। বিসিবি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদেরকে কিছু বলাও হয়নি। নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন তারা। বোর্ড সভা থেকে আসবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।
মিঠুন-সাব্বির-বিজয়-ফরহাদ রেজাদের সঙ্গে গত সোমবার শ্রীলঙ্কা যাওয়ার কথা ছিল প্রধান নির্বাচক নান্নুর। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তার কলম্বো যাত্রা আটকে যায়। সেখানেই নির্বাচকদের বিষয়ে বোর্ডের নতুন ভাবনার কিছুটা ইঙ্গিত মিলছে।
নান্নু-হাবিবুলের কমিটির পারফরম্যান্স নিয়ে বোর্ড সভায় আলোচনা হবে এটুকু নিশ্চিত। সেখানে বিশ্বকাপে জাতীয় দলের পারফরম্যান্স, ‘এ’ দলের পারফরম্যান্সও ভূমিকা রাখবে তাদের ভাগ্য নির্ধারণে। গতকাল জানতে চাইলে বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস বলেছেন, ‘বিশ্বকাপ নিয়ে শুধু নির্বাচক কমিটি নয়, সবার বিষয়েই আমরা আলাপ-আলোচনা করব। আফগানিস্তানের সঙ্গে হোম সিরিজ, বিশ্বকাপ সবকিছুই বোর্ডে আলোচনার এজেন্ডায় থাকবে।’
উল্লেখ্য, রফিকুল আলমের বিদায়ের পর ২০১১ সালে আকরাম খান প্রধান নির্বাচক হওয়ার পর সহকারী নির্বাচক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন নান্নু ও হাবিবুল। ২০১৩ সালে আকরাম পদত্যাগ করলে প্রধান নির্বাচক করা হয় ফারুক আহমেদকে। ২০১৬ সালে ফারুকের বিদায়ের পর প্রধান নির্বাচকের দায়িত্ব পান নান্নু।