শ্রীলঙ্কা সফরের আগে নাজমুল হোসেন শান্তকে সরিয়ে মেহেদী হাসান মিরাজকে ওয়ানডে অধিনায়ক করে বিসিবি। কিন্তু অধিনায়ক পরিবর্তনের প্রভাব পড়েনি ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্সে। উলটো, অধিনায়ক হিসেবে নিজের প্রথম ম্যাচেই বড় লজ্জায় পড়েছেন মিরাজ। একসময় ১ উইকেটে শতরান করা দলটি মাত্র ৫ রানের ব্যবধানে হারায় ৭টি উইকেট! বড় ব্যবধানে হারের সঙ্গে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০-তে পিছিয়ে পড়েছে বাংলাদেশ।
শনিবার (৫ জুলাই) দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মুখোমুখি হবে দুই দল। সে ম্যাচে জয় না পেলে সিরিজ হারার শঙ্কা টাইগারদের সামনে।
টাইগার বাহিনীর এমন হতশ্রী পারফরম্যান্সের পর দল নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সমালোচনার মুখে পড়েছেন প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু ও সহকারী আব্দুর রাজ্জাক। তারা ১৬ সদস্যের স্কোয়াডে রেখেছেন মাত্র আট জন স্বীকৃত ব্যাটার, যার মধ্যে পাঁচ জনই ওপেনার ও টপ অর্ডার ব্যাটার। অথচ প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশের ভরাডুবির মূল কারণ ছিল মিডল অর্ডারের ব্যর্থতা।
এই সফরে মিডল অর্ডারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে লিটন দাস ও তাওহীদ হৃদয়কে। কিন্তু দুজনই দীর্ঘদিন ধরে অফফর্মে। লিটন শেষ আট ম্যাচের চারটিতে শূন্য রানে আউট হয়েছেন, বাকিগুলোতেও দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি। সর্বশেষ হাফ সেঞ্চুরি এসেছে ১৪ ইনিংস আগে। এমন একজন ব্যাটারকেই আবারও দলে জায়গা দিয়েছেন নির্বাচকরা। অন্যদিকে হৃদয় আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ভারতের বিপক্ষে একটি সেঞ্চুরি করলেও সামগ্রিকভাবে ধারাবাহিক নন। চাপের মুহূর্তে বারবার ব্যর্থ হয়েছেন তিনি।
অথচ মিডল অর্ডারের পরীক্ষিত কিছু নামের প্রতি চোখই পড়েনি নির্বাচকদের। নুরুল হাসান সোহান, সৌম্য সরকার ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের মতো ক্রিকেটাররা সম্প্রতি ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো করলেও বিবেচনায় আসেননি। বরং লিপু সাফ জানিয়েছেন- মিরাজ খেললে সৈকতের জায়গা নেই। অথচ মিডল অর্ডারে বারবার ব্যর্থ দলের তখন সৈকতের মতো স্থিতিশীল ব্যাটারের প্রয়োজন ছিল।
ফর্মে থাকা সোহান ও সৌম্যকেও এড়িয়ে গেছেন নির্বাচকরা। সোহানকে তো জাতীয় দলের অনুশীলনে রেখেই বাদ দেওয়া হয়েছে! নির্বাচকদের এমন খামখেয়ালিপনারই মাশুল দিতে হয়েছে বাংলাদেশকে প্রথম ওয়ানডেতে। সিরিজ শুরুর আগে ঢাকা থেকে সরাসরি লঙ্কায় উড়ে গিয়ে মিরাজদের অনুশীলন পর্যবেক্ষণ করেছেন লিপু। প্রথম ম্যাচে লজ্জাজনক পরাজয়ের সাক্ষীও হয়েছেন তিনি।
হারের পর বাংলাদেশ দল বিশ্রামে গেলেও জয় পাওয়া শ্রীলঙ্কা দল অনুশীলনে নেমে পড়েছে। টাইগারদের অনুশীলন না থাকলেও রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন প্রধান কোচ ফিল সিমন্স, সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন ও প্রধান নির্বাচকলিপু। দল নির্বাচনে যেমন খামখেয়ালিপনা দেখা গেছে, তেমনি প্রশ্ন উঠেছে-দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও কি তারই খেসারত দিতে হবে? সম্ভবত সে কারণেই কলম্বোতে এই জরুরি বৈঠক। আগামীকাল দ্বিতীয় ওয়ানডেতেই বোঝা যাবে, এই বৈঠকের কোনো ফল মিলেছে কি না।