সৈকতের সিদ্ধান্তে নাখোশ ইংল্যান্ড অধিনায়ক

গত ডিসেম্বরে বোর্ডার-গাভাস্কার ট্রফির মেলবোর্ন টেস্টে যশস্বী জয়সওয়ালকে তৃতীয় আম্পায়ার হিসেবে আউট দিয়ে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছিলেন বাংলাদেশি আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকত। এবার এজবাস্টন টেস্টে ফের আলোচনায় ভারতীয় ওপেনার ও বাংলাদেশি আম্পায়ার। 

তবে এবার দুজনে একে অপরের মুখোমুখি হয়ে পড়েননি। জয়সওয়ালকে নিয়ে সৈকতের সিদ্ধান্তে বিতর্কে জড়িয়েছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক বেন স্টোকস। তবে দিন শেষে সৈকতের সিদ্ধান্তই সঠিক প্রমাণিত হয়েছে।

ঘটনাটি ইংল্যান্ড-ভারত দ্বিতীয় টেস্টের তৃতীয় দিন শেষ বিকেলের। ভারতের দ্বিতীয় ইনিংসের অষ্টম ওভারে জয়সওয়ালের বিরুদ্ধে এলবিডব্লুর আবেদন করেন ইংলিশ পেসার জশ টাং। দায়িত্বে থাকা শরফুদ্দৌলার জয়সওয়ালকে আউট ঘোষণা করেন।

সিদ্ধান্তটি ইংল্যান্ডকে খুশি করলেও জয়সওয়াল ছিলেন দ্বিধাগ্রস্ত। আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করবেন কি না, এ নিয়ে কথা বলেন সঙ্গী লোকেশ রাহুল। বেশ সময় নিয়েই রিভিউ নেওয়ার কথা জানান জয়সওয়াল, নিয়মানুযায়ী সৈকত সেটি তৃতীয় আম্পায়ারের কাছে পাঠিয়ে দেন।

এ সময় ইংলিশ অধিনায়ক স্টোকস ছুটে যান সৈকতের দিকে। তার দাবি, রিভিউ নেওয়ার ১৫ সেকেন্ডের নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেছে। রিভিউ নেওয়ার সুযোগ আর নেই। তবে সৈকত জানান, সময়ের মধ্যেই জয়সওয়াল রিভিউ নিয়েছেন। 

তবে নিয়মের মধ্যেই রিভিউ হয়েছে জানালেও স্টোকস সেটি মানতে রাজি নন। বেশ কিছুটা সময় স্টোকস তর্ক করে যেতে থাকেন আম্পায়ারের সঙ্গে। এর মধ্যে ম্যাচের অপর আম্পায়ার ক্রিস গাফানিও এসে যোগ দেন। পুরো দৃশ্যপটে স্টোকসকে বেশ অসন্তুষ্ট দেখা গেছে।

এ দিকে টিভি আম্পায়ার পল রাইফেল পর্যালোচনা করে দেখতে পান, জয়সওয়াল আউটই ছিলেন। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানার পর মাঠ ছাড়েন ভারতী ওপেনার। একটি রিভিউ হারায় ভারত। অর্থাৎ সৈকতের আউটের সিদ্ধান্ত সঠিকই ছিল। মাঝে জয়সওয়ালের মনে হয়েছে আম্পায়ার সঠিক সিদ্ধান্ত দেননি, স্টোকসের মনে হয়েছে আম্পায়ার নির্ধারিত সময়ের পরে রিভিউ নেওয়ার সুযোগ দিয়েছেন।

এর আগে ভারতের প্রথম ইনিংসেও জয়সওয়ালের বিরুদ্ধে আউটের আবেদনে সঠিক ছিলেন সৈকত। তখন ক্রিস ওকসের বলে জয়সওয়ালকে এলবিডব্লু দেননি এই বাংলাদেশি আম্পায়ার। সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে স্টোকস রিভিউ নিলেও ‘আম্পায়ার্স কল’ বহাল থাকে।