গ্রেনাডার সেন্ট জর্জেস পার্কে টেস্ট সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হয়ে লজ্জাজনক পরাজয়ের মুখে পড়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ম্যাচ জিততে হলে ক্যারিবীয়দের প্রয়োজন ছিল ঐতিহাসিক এক রান তাড়া, যা এ মাঠে আগেই করে দেখিয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু সেই রেকর্ড ভাঙার বদলে মুখ থুবড়ে পড়ে যায় স্বাগতিকরা। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১৩৩ রানে হেরে তিন ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল সফরকারীরা।
২০০৯ সালে এই গ্রেনাডা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ চতুর্থ ইনিংসে ২১৭ রান তাড়া করে জিতেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে, যা এখনও পর্যন্ত এই মাঠে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড। সেই রেকর্ড ভাঙতে হলে এবার ওয়েস্ট ইন্ডিজকে লক্ষ্য রাখতে হতো ২৭৭ রানের দিকে। কিন্তু মাত্র ১৪৩ রানেই গুটিয়ে যায় পুরো দল।
চতুর্থ দিন শেষে ৭ উইকেটে ২২১ রান নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করেছিল অস্ট্রেলিয়া। তবে মাত্র ৭ ওভারে ২২ রান যোগ করেই শেষ তিন উইকেট হারিয়ে ২৪৩ রানে অলআউট হয় তারা। দুই ফিফটির ইনিংসে স্টিভ স্মিথ করেন ৭১ রান ও ক্যামেরন গ্রিন ৫২। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে শামার জোসেফ ৪ উইকেট নেন, আর আলজারি জোসেফ, জাস্টিন গ্রিভস ও জেইডেন সিলস নেন দুটি করে উইকেট।
লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৭৭ রান। কিন্তু ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই বিপর্যয় ঘটে ক্যারিবীয় শিবিরে। ৩৩ রানে প্রথম চার উইকেট হারায় তারা। এরপর শাই হোপ ও অধিনায়ক রস্টন চেজ মিলে ৩৮ রানের ছোট জুটি গড়লেও তা ছিল ক্ষণস্থায়ী। ২১তম ওভারে হ্যাজলউডের বলে কট অ্যান্ড বোল্ড হয়ে বিদায় নেন হোপ (১৭)।
এরপর একে একে পড়ে যেতে থাকে বাকি উইকেটগুলো। শেষ ৬ উইকেট মাত্র ৭২ রানে হারিয়ে ৩৪.৩ ওভারে ১৪৩ রানেই থেমে যায় ক্যারিবীয়দের ইনিংস। সর্বোচ্চ ৩৪ রান করেন চেজ। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে স্টার্ক ও লায়ন ৩টি করে, হ্যাজলউড ২টি এবং কামিন্স ও ওয়েবস্টার একটি করে উইকেট তুলে নেন।
টস জিতে ব্যাটিং নেয় অস্ট্রেলিয়া। প্রথম ইনিংসে তারা ২৮৬ রানে গুটিয়ে যায়। উইকেটরক্ষক অ্যালেক্স ক্যারি করেন সর্বোচ্চ ৬৩ রান, যার কারণে ম্যাচ শেষে তিনিই হয়েছেন সেরা খেলোয়াড়। আলজারি জোসেফ পেয়েছেন ৪ উইকেট। জবাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২৫৩ রানে অলআউট হয়। ব্র্যান্ডন কিং খেলেন ৭৫ রানের ইনিংস।
এই মাঠে আগে টেস্টে রান তাড়া করে তিনটি জয় হয়েছে। সর্বোচ্চটি বাংলাদেশের, ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২১৭ রানে জয়। এরপর রয়েছে ইংল্যান্ডের ২০১৫ সালের ১৪৪/১ রানের জয় ও ২০২২ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের করা ২৮/০ রান।
এবার সেই রেকর্ড ভাঙার সুবর্ণ সুযোগ এসেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে। কিন্তু ব্যর্থতার ছাপ রেখেই তারা ফিরেছে ড্রেসিংরুমে। এই হারে টেস্ট সিরিজ হার নিশ্চিত হয়ে গেছে। আগামী ম্যাচে হার এড়াতে পারলে হয়তো মান রক্ষা করা সম্ভব হবে, তবে বাংলাদেশের রেকর্ড আপাতত অটুট রইল।