বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জ অফিসের আশপাশে বেড়েছে বাঘের আনাগোনা। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে রেঞ্জে কর্মরত বনরক্ষীদের মাঝে। চলতি সপ্তাহে দুই বার হরিণ ধাওয়া করে বাঘ রেঞ্জের সদর প্রাঙ্গণে ঢুকে পড়েছে। এক পর্যায়ে ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে বাঘ তাড়িয়েছেন বনরক্ষীরা।
প্রথমবার গত শুক্রবার (৪ জুলাই) এবং দ্বিতীয় দফায় ১১ জুলাই বাঘ সদর রেঞ্জ প্রাঙ্গণে হানা দেয় বলে জানিয়েছেন বন বিভাগের কর্মকর্তারা।
বনরক্ষীরা জানান, প্রথমবার গত ৪ জুলাই রেঞ্জ অফিস সংলগ্ন বনে বাঘের উপস্থিতি টের পাওয়া যায়। এ সময় বাঘ হরিণ ও শূকর তাড়া করে। আশপাশে বাঘ অবস্থান করায় বনরক্ষীরদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে দুই দিনেও বাঘ সরে না যাওয়ায় ৫ জুলাই দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে করে বাঘ তাড়াতে হয়েছে।
এ ঘটনার ৬ দিন পর গত ১১ জুলাই দুপুরে একই স্থানে আবার বাঘ হানা দেয়। এদিন দুপুরে ৮ থেকে ১০টি হরিণ বাঘের তাড়া খেয়ে দৌঁড়ে রেঞ্জ অফিসের সামনে এসে হুমড়ি খেয়ে পড়ে এবং বন্য শূকরগুলো এলোপাতাড়ি দৌঁড়ে সুন্দরবনের মধ্যে চলে যায়। এরপর অফিসের কাছাকাছি বাঘের পায়ের ছাপ দেখা গেছে। এরপর শনিবার সকাল থেকে রেঞ্জ ও স্টেশন অফিস আঙিনায় অন্য দিনের মতো বন্য শূকর বিচরণ করতেও দেখা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, বাঘ রেঞ্জ অফিসের কাছাকাছি স্থানে এখনও লুকিয়ে আছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বনরক্ষী বলেন, শরণখোলা রেঞ্জ ও স্টেশন অফিসের পূর্ব দিকে বনের পাশে নাইলনের ফেন্সিং দিয়ে ঘেরা। এ ঘেরার মধ্যে কয়েকটি হরিণ আটকে থেকে ছোট জঙ্গল ও ঝোপের মধ্যে ঘোরাফেরা করে। এছাড়া ফেন্সিংয়ের নিচ দিয়ে কিছু বন্য শূকর অফিস আঙ্গিনায় চলে আসে। সম্ভবত হরিণের লোভে বাঘ বারবার অফিসের কাছে চলে আসছে বলে।
পূর্ব সুন্দরবন বন বিভাগের শরণখোলা স্টেশন কর্মকর্তা ফরেস্ট রেঞ্জার মো. খলিলুর রহমান শনিবার সকালে ইত্তেফাক ডিজিটালকে বলেন, সুন্দরবনে বাঘের আনাগোনা বেড়েছে। গত এক সপ্তাহে রয়েল বেঙ্গল টাইগার দুইবার শরণখোলা রেঞ্জ অফিস আঙিনায় চলে আসে। প্রথমবার গত ৪ জুলাই রেঞ্জ অফিস সংলগ্ন বনে বাঘের আগমন টের পাওয়া যায়।
পূর্ব সুন্দরবন বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) রানা দেব বলেন, রেঞ্জ অফিস সংলগ্ন ভোলা নদী সাঁতরে বাঘ রেঞ্জ অফিসের কাছে চলে আসছে।
পূর্ব সুন্দরবন বনবিভাগ বাগেরহাটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করীম চৌধুরী বলেন, সুন্দরবনে বাঘের চাপ বৃদ্ধি তো ভালো খবর। সুন্দরবন বাঘের আবাসস্থল। বাঘ বনের যে কোনো জায়গায় বিচরণ করতে পারে, এটা স্বাভাবিক ঘটনা। এতে বনরক্ষীদের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।