ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক সংসদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো ‘আষাঢ় পার্বণ’

বাংলার আবহমানকালের প্রাণ-সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ বাংলা বছরের দ্বিতীয় ঋতু ‘বর্ষা’কে বরণ করে নিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক সংসদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘আষাঢ় পার্বণ ১৪৩২’।

রোববার (১৩ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে নাচে-গানে মুখরিত পরিবেশে আয়োজিত হয় এ উৎসব।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক সংসদ দ্বিতীয় বারের মতো আয়োজন করলো আষাঢ় পার্বণ। অনুষ্ঠানের শুরুতে জুলাই বিপ্লবের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং পরিবেশ সচেতনতায় বৃক্ষরোপণ করা হয়। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বেলা তিনটায় অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরেণ্য অভিনেতা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব তারিক আনাম খান এবং প্রখ্যাত নৃত্যশিল্পী মুনমুন আহমেদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক সংসদের মডারেটর এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. রাশেদা রওনক খান।

শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার বলেন, ‘কালিদাস, লালন, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল বর্ষা নিয়ে রচনা করেছেন বিভিন্নমুখী সাহিত্য। হাজার বছরের বাঙ্গালি সংস্কৃতির চর্চায় এই উদ্যোগ হোক তরুণ দের অনুপ্রেরণা।’

উদ্বোধক অধ্যাপক এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘জীবনে যতই দুঃখবোধ থাকুক, ইতিবাচক দিকগুলো কে আনন্দের সাথে উদযাপন করতে হবে। বর্ষার নেতিবাচক সকল দিককে পেছনে ফেলে আনন্দময় পরিবেশে আমরা এই ঋতুকে উপভোগ করব আশা করি।’

তারিক আনাম খান বলেন, ‘শান্তি নিকেতনের মত আষাঢ়ে বৃক্ষরোপণ এই কর্মকাণ্ডে একটি নতুন সংযোজন। একে সাধুবাদ জানাই।’

উৎসবের আয়োজন সম্পর্কে সাংস্কৃতিক সংসদের সভাপতি নাফিয়া ফারজানা অমিয়া বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক সংসদ সর্বদাই নিজস্ব সংস্কৃতির সুস্থ ধারায় চর্চাকে সুস্থ উৎসাহিত করে আসছে। এই সংস্কৃতিকে তরুণ প্রজন্মের মধ্য দিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আমরা পৌঁছে দিতে চাই।

উৎসব আয়োজন সম্পর্কে সাধারণ সম্পাদক রওনক জাহান রাকামনি বলেন, ‘সংস্কৃতি চর্চা মানুষের মনের সুন্দর বিকাশ সম্ভব বলে আমরা বিশ্বাস করি। ধর্মান্ধতা, হিংসাদ্বেষের বিরুদ্ধে আমরা সর্বদাই সোচ্চার। আষাঢ় পার্বণ বাঙালি সত্তাকে আরও প্রগাঢ় করতে আরেকটি উদ্যোগ।’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথিদের বক্তব্যের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক সংসদের নানান সাংস্কৃতিক পরিবেশনার পাশাপাশি মূল আকর্ষণ হিসেবে ছিলো প্রখ্যাত ব্র্যান্ড ‘জলের গান’ এর সঙ্গীত পরিবেশনা। এই আয়োজনে বাংলার কারুশিল্প এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের উৎসাহ দিতে দিনভর টিএসসি প্রাঙ্গণে আয়োজিত হয় উদ্যোক্তা মেলা। এতে ছিলো নবীন উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন স্টল ও বর্ষা যাপনের নানা উপাদান।

উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক সংসদ বছরব্যাপী বসন্ত উৎসব, নাট্যোৎসব, আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ইত্যাদি আয়োজনের মধ্য দিয়ে তরুণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে শুদ্ধ বাংলা সংস্কৃতি ও অসাম্প্রদায়িক আদর্শের সম্প্রসারণে সচেষ্ট।