স্কুলের জমি-কমিটি দখলের অভিযোগ

সারা জীবনে কোনো কিছু দখল করি নাই, চাইলে মতিঝিলে রেখা টেনে দিতে পারতাম: কাদের সিদ্দিকী

নিজেকে ইকবাল সিদ্দিকী এডুকেশন সোসাইটির সভাপতি ঘোষণা দিয়ে প্রতিষ্ঠান ও জমি দখলের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী। তবে ইকবাল সিদ্দিকীর পরিবারের সদস্যরা ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীরা তার বিরুদ্ধে ‘জমি দখল, স্বাক্ষর জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের’ অভিযোগ তুলেছেন।

সোমবার (১৪ জুলাই) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন ইকবাল সিদ্দিকীর মেজো ভাই হায়দার সিদ্দিকী। এতে কচি-কাঁচা একাডেমি, নয়নপুর এন এস আদর্শ বিদ্যালয়, ইকবাল সিদ্দিকী স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও এডুকেশন সোসাইটির শিক্ষক-কর্মচারীসহ শতাধিক ভুক্তভোগী উপস্থিত ছিলেন।

হায়দার সিদ্দিকী অভিযোগ করেন, ‘২০২৩ সালের মার্চে ইকবাল সিদ্দিকীর মৃত্যুর দুই দিনের মধ্যেই আব্দুল কাদের সিদ্দিকী নিজেকে সোসাইটির সভাপতি ঘোষণা করেন এবং মৃত ব্যক্তিদের স্বাক্ষর জাল করে একটি কমিটি আরজেএসসিতে দাখিল করেন, যা পরবর্তীতে স্থগিত ঘোষণা করা হয়।’

তিনি আরও জানান, ‘কমিটি স্থগিত হওয়ার পরও কাদের সিদ্দিকী প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা তোলার চেষ্টা করছেন এবং মাউশিকে প্রভাবিত করে একটি অনুমোদন আদায় করেছেন। শিক্ষক-কর্মচারীদের জোরপূর্বক টাকা আদায় করে নির্বাচনী খরচ চালানোসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে।’

অভিযোগের বিষয়ে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘আমি সারা জীবনে কিছু দখল করিনি। চাইলে মতিঝিলে রেখা টেনে দিতে পারতাম। যারা অভিযোগ করছে, তারাই আসল অপরাধী—ওই প্রতিষ্ঠানেও আগুন দিয়েছিল। এসবের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটি যাতে চলে, সে জন্যই আমি তাদের অনুরোধে সেখানে গিয়েছিলাম। এটা আমার প্রতিষ্ঠিত ট্রাস্টের সম্পত্তি। আমি কেন ছেড়ে দেব? অভিযোগকারীরা কেউ এই ট্রাস্টের সঙ্গে যুক্ত নন।’

উল্লেখ্য, ইকবাল সিদ্দিকীর উদ্যোগে গাজীপুরের নয়নপুর এলাকায় ১৯৯০ সালে কচি-কাঁচা একাডেমি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এ সোসাইটির কার্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তীতে আরও কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এ সোসাইটির অধীনে গড়ে ওঠে।