নীলফামারীর সৈয়দপুর পৌরসভা এলাকায় মাত্র এক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। দোকানপাট, ঘরবাড়ি ও সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শহরবাসী এই দুরবস্থার জন্য দায়ী করছেন পৌরসভার অব্যবস্থাপনা ও দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থাকে। দীর্ঘদিন ধরেই এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়নি পৌর কর্তৃপক্ষ বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
বুধবার (১৬ জুলাই) দুপুরে হঠাৎ করে ঘণ্টাব্যাপী ভারী বর্ষণে মুন্সীপাড়া, নতুন বাবুপাড়া, পুরাতন বাবুপাড়া, বাঁশবাড়ি, মিস্ত্রিপাড়া, বাঙালিপুর, নিজপাড়াসহ নিম্নাঞ্চলের বহু ঘরবাড়ি ও দোকানপাট ১-২ ফুট পানির নিচে তলিয়ে যায়। শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহীদ ডা. জিকরুল হক সড়কেও জমে যায় হাটু সমান পানি, যা প্রবেশ করে আশপাশের শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে।
শহরের বাসিন্দারা জানান, সৈয়দপুর একটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হলেও এখানকার সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার চিত্র অত্যন্ত করুণ। দীর্ঘদিন ধরে খানাখন্দকে ভরা রাস্তাগুলোর সংস্কার না হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে যায়। অভিযোগ দিলেও মেয়র বা কাউন্সিলরা কর্ণপাত করেন না বলেও ক্ষোভ জানান তারা।
শহীদ ডা. জিকরুল হক সড়কের এক ব্যবসায়ী বলেন, এই সড়কের ড্রেনগুলো একেবারেই অকেজো। নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না, ফলে পানি প্রবেশ করে দোকানঘরে। ব্যবসা বন্ধ রেখে বসে থাকতে হয়।
৮ নম্বর ওয়ার্ডের পান দোকানদার মনসুর আলী বলেন, বর্ষাকাল মানেই আমাদের পানিবন্দি হয়ে থাকা। বহুবার আবেদন করেও মাস্টার ড্রেন পাইনি। সমস্যাটি যেন আমাদের নিয়তি হয়ে গেছে।
ফল ব্যবসায়ী দুলাল জানান, স্থানীয়রা নিজেদের অর্থে রাস্তাটি উঁচু করার চেষ্টা করলেও তা তীব্র বর্ষণে ভেঙে গেছে। পৌরসভাকে বলতে বলতে এখন নিজেরাই কাজ করতে বাধ্য হচ্ছি। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।
সৈয়দপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী সহিদুল ইসলাম বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে পৌরসভার নিজস্ব টিম রয়েছে। তবে বাজেট ঘাটতির কারণে মাস্টার ড্রেন নির্মাণ সম্ভব হয়নি। এবারের বাজেটে ১২২ কোটি টাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা রয়েছে। কয়েকটি রাস্তার কাজ চলছে, ডিসেম্বরের মধ্যে ভোগান্তি কমবে।
এ বিষয়ে সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক নুর-ই আলম সিদ্দিকী জানান, এবছর পৌরসভার জন্য বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আগামী মাসে দুইটি সমস্যাপূর্ণ সড়কে কাজ শুরু হচ্ছে এবং ড্রেনের কাজও চলবে। আশা করি এ বছরের মধ্যেই দৃশ্যমান উন্নয়ন হবে।