শ্রীলঙ্কা সফরের চূড়ান্ত মুহূর্তে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয় নিঃসন্দেহে এক প্রেরণাদায়ক অর্জন। দীর্ঘ সফরে টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজে হতাশার পর এই জয় যেন অন্ধকারে আশার আলো। তবে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমনের কথায় স্পষ্ট সতর্কবার্তা-এই জয় যেন আত্মতুষ্টির জন্ম না দেয়। কারণ বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে সাফল্য পেতে হলে এখনো অনেক পথ বাকি।
গণমাধ্যমে সুমন সোজাসাপটা বলেছেন, 'ভালো করতে হলে আগের সিরিজগুলোতে আমাদের যে জায়গায় ভুল হয়েছে, সেই জায়গাগুলো ঠিক করা গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজ জিতেছি বলেই যদি আমরা ভেবে ফেলি যে, আমাদের সবকিছু ঠিক হয়ে গেছে, তাহলে হবে না। আমরা মনে করি, এখনো আমাদের অনেক পরিশ্রম করা বাকি আছে। অনেক কাজ করতে হবে বিশ্বকাপের আগে।'
বাংলাদেশের জন্য এই সিরিজ জয় শুধু একটি পরিসংখ্যানগত অর্জন নয়, এটি আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধারের মাধ্যম। বিশেষ করে অধিনায়ক লিটন দাসের পারফরম্যান্স এবং নেতৃত্ব অনেক প্রশ্নের জবাব দিয়েছে। বাজে ফর্ম, নেতিবাচক আলোচনা এবং চাপের মধ্যে থেকেও দলকে নেতৃত্ব দিয়ে সিরিজ জেতানো কোনো সহজ কাজ নয়। জাতীয় দলের ম্যানেজার নাফিস ইকবাল বলেছেন, 'ও নিজের ক্যারেক্টার শো করেছে। আশা করি এবং দোয়া করব, যেন এটা ধরে রাখে।' তার কথায় স্পষ্ট, এই জয় শুধু এক ম্যাচ বা সিরিজের নয়, এটি দলের মানসিক দৃঢ়তার প্রতিফলন।
শেষ ম্যাচে শেখ মাহেদীর বোলিং ছিল সিরিজের টার্নিং পয়েন্টগুলোর একটি। ৪ ওভারে ৪ উইকেট নিয়ে লঙ্কানদের ১৩২ রানে আটকে দিয়েছিলেন তিনি, যা ৮ উইকেটের সহজ জয়ের ভিত গড়ে দেয়। লঙ্কান অধিনায়ক চারিথ আসালাঙ্কাও ম্যাচ শেষে প্রশংসা করেছেন মাহেদীর বল এবং বাংলাদেশের ফিল্ডিংয়ের। সবকিছু ভেদ করে এখন জাতীয় দলের জন্য সুমনের বার্তাই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এই জয়ের মধ্যেও যেটি সবচেয়ে জরুরি তা হলো-ভুলগুলো চিহ্নিত করে তা শুধরে নেওয়া।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আসন্ন। সেখানে প্রতিটি ম্যাচে চাপ আরও বেশি থাকবে। যেমন হাবিবুল বাশার সুমন সতর্ক করেছেন, 'যদি আমরা ভেবে ফেলি আমাদের সবকিছু ঠিক হয়ে গেছে, তাহলে হবে না।' শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শেষ দুই ম্যাচে বাংলাদেশ যেভাবে খেলেছে, সেটা প্রশংসাযোগ্য। তবে ধারাবাহিকতা না থাকলে সেই পারফরম্যান্স ভোঁতা হয়ে যেতে পারে। সেজন্য সুমনের বলেছেন, 'আমরা যেভাবে ক্রিকেট খেলছি, এভাবে খেলে হারলে আমার কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু ধারাটা ধরে রাখা জরুরি।'
লঙ্কানদের বিপক্ষে এই জয় উদযাপনের মধ্যেই আবারও নতুন সিরিজ। দুই দিনের বিরতি শেষে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। প্রতিপক্ষ আরও শক্তিশালী, চ্যালেঞ্জ আরও কঠিন। ম্যানেজার নাফিস ইকবাল তাই আগেভাগেই সতর্ক করে দিয়েছেন, 'খেলা কিন্তু শেষ হয়নি।'
তবে লায়নদের বিপক্ষে ঐতিহাসিক এই জয় বাংলাদেশ দলের জন্য এক ধরনের পুনর্জন্ম। এমন অর্জনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন বিসিবি পরিচালক ইফতেখার রহমান মিঠু। তিনি বলেছেন, 'বাঙালি হিসেবে খুবই গর্ববোধ করি, বিশ্বকাপে আত্মবিশ্বাস সবার ওপরে থাকতে হবে। এমন জয় সেই আত্মবিশ্বাসকে জাগিয়ে তোলে।'