ইরান আলোচনার জন্য প্রস্তুত রয়েছে, কিন্তু এই আলোচনার অর্থ যদি হয় আত্মসমর্পণ তাহলে কোনো আলোচনা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। তবে কার সঙ্গে এই আলোচনা হবে সে ব্যাপারে কোনো ইঙ্গিত না দিয়েই বুধবার তিনি ইরানে এসব কথা বলেন। এদিকে, ২০১৫ সালে করা পরমাণু চুক্তির অংশীদারদের সঙ্গে রবিবার ভিয়েনায় বৈঠকে বসার কথা রয়েছে ইরানের।
ধারণা করা হচ্ছে, উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান উত্তেজনা ও তেহরানের ওপর ওয়াশিংটনের আরোপিত নিষেধাজ্ঞার দিকে ইঙ্গিত করে যুক্তরাষ্ট্রকে লক্ষ্য এসব কথা বলেছেন রুহানি। রুহানি বলেছেন, ‘দেশের নির্বাহী দায়িত্ব পালনের দায় যেহেতু আমার রয়েছে, সুতরাং সমস্যা সমাধানের জন্য আমরা শুধু বৈধ এবং সত্ আলোচনায় বসতে প্রস্তুত রয়েছি। কিন্তু একই সময়ে আলোচনার নামে আমরা টেবিলে আত্মসমর্পণ করতে রাজি নই।’
ইরানের সঙ্গে ছয় বিশ্বশক্তির ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র গত বছরের মে মাসে বেরিয়ে যায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই চুক্তিকে অর্থহীন উল্লেখ করে নিজ দেশকে প্রত্যাহার করে নিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে তিনি আলোচনায় বসতে রাজি আছেন বলে জানান ট্রাম্প।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার চুক্তির আনুষ্ঠানিক নাম উল্লেখ করে বলেছে, আগামী ২৮ জুলাই ভিয়েনায় অনুষ্ঠেয় জেসিপিওএ (জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশান)-এর যুক্ত কমিশনের ব্যতিক্রমী বৈঠকে বসতে তারা সম্মত। ইংরেজি ভাষায় দেয়া এক বিবৃতিতে দেশটি আরো বলেছে, উপমন্ত্রী ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ পর্যায়ে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে। চুক্তির ইউরোপীয় অংশীদাররা ইরানকে নতুন পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে বৈঠকে অংশ নেয়ার অনুরোধ জানিয়েছে বলে এতে বলা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়া এবং অবরোধ আরোপের প্রেক্ষাপটে ইরান চুক্তিতে বেঁধে দেয়া সীমা লঙ্ঘন করে তার ইউরেনিয়াম মজুদ বাড়ানোর ঘোষণা এবং তা বাস্তবায়নেরও উদ্যোগ নেয়। এছাড়া ইরান আরো কিছু পদক্ষেপ নেয়ার কথাও ঘোষণা করে। তবে দেশটি আরো পদক্ষেপ কি নেবে তা এখনো স্পষ্ট করেনি। তবে একই সঙ্গে দেশটি বলেছে, চুক্তির ইউরোপীয় অংশীদাররা যদি তাদের অঙ্গীকার পূরণে এগিয়ে আসে তবে তাদের অবস্থানও কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পালটে যাবে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও চুক্তির অন্য অংশীদাররা হলো ব্রিটেন, চীন, ফ্রান্স, জার্মানি ও রাশিয়া।