মশা মারার কার্যকর ওষুধ শিগগিরই আসছে :কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছেন, ‘ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। শিগগিরই পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে মশা মারার কার্যকর ওষুধ আনতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে বলা হয়েছে। ঢাকার দুই মেয়রকে আরো দায়িত্বশীল হতে বলেছি।’ গতকাল বুধবার সচিবালয়ে ঈদুল আজহার প্রস্তুতি, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক-মহাসড়ক সংস্কার ও সমসাময়িক ইস্যুতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।  ওবায়দুল কাদের  বলেন, হাসপাতালে নতুন রোগী মানেই হচ্ছে ডেঙ্গু। ঢাকার বাইরেও ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ছে, প্রাণহানি ঘটছে। এ বিষয়ে দুই মেয়রের সঙ্গে আলাপ হয়েছে। তারা সচেতনতার বিষয়ে ক্যাম্পেইন বিল্ডআপ করছেন, বিভিন্ন জায়গায় বৈঠক করছেন।

গুজব রটিয়ে গণপিটুনির ঘটনা প্রতিরোধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে দলীয়ভাবে সভা-সমাবেশ করে জনগণকে সতর্ক ও সচেতন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংসদ সদস্যদেরও তাদের এলাকায় গিয়ে সভা-সমাবেশ করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে চিফ হুইপের মাধ্যমে। তিনি বলেন, ‘দেশে গুজবের হুজুগ নতুন নয়। এবারের গুজব ষড়যন্ত্র-চক্রান্তের বিষয় কি না, গভীরভাবে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আশা করছি এরকম পরিস্থিতি আর হবে না। পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।’

বন্য পরিস্থিতি সামগ্রিকভাবে উন্নতির দিকে থাকলেও কিছু কিছু জায়গায় অবনতি ঘটছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মধ্যাঞ্চলে আরো প্লাবনের অবস্থা রয়েছে। হাইওয়ে ছাড়া জেলা সড়কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঈদের এক সপ্তাহ আগে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো মেরামতের কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশনা দিয়েছি। জেলা সড়ক নিয়ে চিন্তা করছি। ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয় থেকে একটি মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি রাস্তাঘাটগুলোর সংস্কারকাজ তদারক করবে। এবার বন্যার কারণে ঘরে ফেরা মানুষের ঈদযাত্রা যাতে ব্যাহত না হয়, সেদিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’

সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির (জাপা) নেতৃত্ব নিয়ে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে, তা ‘দেবর-ভাবি’ আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে মীমাংসা করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন ওবায়দুল কাদের। 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অধিভুক্ত সাত কলেজের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে আমরা জানিয়েছি। তিনি এলে বিষয়টি বিবেচনা করবেন।’

ঢাকাসহ সারা দেশে লাইসেন্স নিয়ে ফিটনেস নবায়ন না করা ৪ লাখ ৭৯ হাজার ৩২০টি গাড়ির ফিটনেস নবায়নের জন্য দুই মাস সময় বেঁধে দিয়েছে হাইকোর্ট। এ বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরা বিআরটিএকে আগেই নির্দেশনা দিয়েছি, কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে প্রয়োজনে ছুটির দিনেও কাজ করতে হবে। ফিটনেস নবায়নে সপ্তাহে ছয় দিন কাজ করবে।’