ডাউনিং স্ট্রিটে বরিস জনসন বিদায় থেরেসার

ব্রিটেনের ১০ নং ডাউনিং স্ট্রিটে প্রবেশ করলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন। আর বিদায় নিলেন থেরেসা মে। গতকাল ডাউনিং স্ট্রিটে বিদায়ী ভাষণের পর থেরেসা মে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাত্ করেন এবং পদত্যাগপত্র জমা দেন। প্রধানমন্ত্রী হয়ে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে বরিস জনসন ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ব্রেক্সিট কার্যকরের অঙ্গীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, এক্ষেত্রে ‘যদি বা কিন্তু’র কোনো অবকাশ নেই। খবর বিবিসি ও দ্য মিরর’র

৭৭তম প্রধানমন্ত্রী বরিস

গতকাল বিকেলে রানি এলিজাবেথের সঙ্গে সাক্ষাত্ করতে বাকিংহাম প্রাসাদে যান বরিস জনসন। এই সময় রানি তাঁকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানান। প্রাসাদে যাওয়ার সময় বরিস জনসন বিক্ষোভের মুখে পড়েন। স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় বরিস দেশটির ৭৭তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। রানিই তাঁর নিয়োগ চূড়ান্ত করেন। সংক্ষিপ্ত ভাষণে নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেন, স্বাধীনতা, মুক্তমত আইনের শাসন এবং গণতন্ত্রের পক্ষে অবস্থান নিতে হবে। এজন্যই আগামী ৩১ অক্টোবর আমরা ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাবো। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রিয় বরিস জনসন (৫৫) হুঁশিয়ারি দেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন যদি সমঝোতা না করে তাহলে ‘চুক্তিহীন ব্রেক্সিট’ ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না। বরিস জনসন গতকালই তাঁর মন্ত্রিসভা চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। তাঁর মন্ত্রিসভায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পেতে পারেন বলে গুঞ্জন ছড়িয়েছে। সাজিদ জাভিদকে ডাউনিং স্ট্রিটে প্রবেশ করতে দেখা গেছে। জানা গেছে, বরিস তাঁর মন্ত্রিসভায় নারী এবং জাতিগত সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধিত্বও বাড়াবেন। গতকাল পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট এবং অর্থমন্ত্রী ফিলিপ হ্যামন্ড পদত্যাগ করেন। চার দফা ভোট শেষে মঙ্গলবার ক্ষমতাসীন রক্ষণশীল দলের নেতা নির্বাচিত হন বরিস জনসন। সংবিধান অনুযায়ী দলের নেতাই প্রধানমন্ত্রী হন।

বিদায় থেরেসা মে’র

বরিসের শপথের আগে থেরেসা মে স্বামী ফিলিপকে পাশে রেখে ডাউনিং স্ট্রিটে বিদায়ী ভাষণ দেন। এ সময় তিনি বলেন, একটা বিষয় প্রমাণিত হয়েছে যে ব্রিটেনে এখন আর নারী প্রধানমন্ত্রী হতে কোনো বাধা নেই। তরুণীরা অন্তত এই ধারণাটা পেয়েছেন। বিদায়ী ভাষণের পর থেরেসা মে বাকিংহাম প্যালেসে গিয়ে রানি এলিজাবেথের সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন এবং পদত্যাগপত্র জমা দেন। এরপরই রানির কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে নেন বরিস। ২০১৬ সালে বেক্সিট গণভোটে হারার পর ডেভিড ক্যামেরন প্রধানমন্ত্রিত্ব এবং দলের নেতৃত্ব ছেড়ে দেন। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রতিযোগিতায় যোগ দেন বরিস জনসন। তবে থেরেসা মে’র সঙ্গে এঁটে উঠতে না পেরে সরে দাঁড়ান। পরে রক্ষণশীল দলের ব্রেক্সিটপন্থীদের চাপে বরিস জনসনকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করেন থেরেসা মে। কিন্তু ব্রেক্সিট নিয়ে থেরেসা মে’র সঙ্গে বিরোধে ২০১৮ সালের জুলাইয়ে পদত্যাগ করেন। এরপর থেরেসা মে পদত্যাগ করায় প্রধানমন্ত্রীর দৌঁড়ে আবার যুক্ত হন বরিস।