কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার রেশ গিয়ে লাগলো ক্রিকেট মাঠেও। সাম্প্রতিক ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার জেরে বাতিল হয়ে গেল ‘ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অব লেজেন্ডস’-এ দুই দেশের বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচ। শহীদ আফ্রিদিকে ঘিরে বিতর্কের কারণেই ম্যাচে অংশ নিতে রাজি হননি ভারতের সাবেক ক্রিকেটাররা, ফলে আয়োজকরা আনুষ্ঠানিকভাবে ম্যাচটি বাতিলের ঘোষণা দেয়।
রোববার (২০ জুলাই) ইংল্যান্ডের এজবাস্টনে এই ম্যাচটি হওয়ার কথা ছিল। যেখানে মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল দুই দেশের সাবেক তারকা ক্রিকেটারদের। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে শহীদ আফ্রিদি ও শিখর ধাওয়ানের সামাজিক মাধ্যমে বাকযুদ্ধ, ম্যাচটির পরিবেশকে উত্তপ্ত করে তোলে।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও সুপারের বরাতে জানা যায়, আফ্রিদির উপস্থিতি থাকলে ম্যাচে অংশ নেবেন না বলে শর্ত জুড়ে দেন যুবরাজ সিং, হরভজন সিং, ইরফান পাঠান, সুরেশ রায়না ও ইউসুফ পাঠানের মতো ভারতীয় সাবেক ক্রিকেটাররা। এমন অবস্থায় ডব্লিউসিএল কর্তৃপক্ষ ম্যাচটি বাতিল করতে বাধ্য হয়।
Dear all , pic.twitter.com/ViIlA3ZrLl
— World Championship Of Legends (@WclLeague) July 19, 2025
ডব্লিউসিএল এক বিবৃতিতে জানায়, 'আমরা সবসময় ক্রিকেটকে ভালোবাসা ও ঐক্যের প্রতীক হিসেবে দেখি। ভারত-পাকিস্তানের সাম্প্রতিক ভলিবল ও হকি ম্যাচ আয়োজন আমাদের আশাবাদী করেছিল যে, ক্রিকেটেও সৌহার্দ্য বজায় থাকবে। কিন্তু খেলোয়াড়দের মানসিক অবস্থার কথা বিবেচনায় নিয়ে ম্যাচটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।'
তারা আরও জানায়, 'আমাদের উদ্দেশ্য ছিল ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য আনন্দময় মুহূর্ত তৈরি করা। কারও অনুভূতিতে আঘাত দিতে চাইনি বলেই আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।'
এই ঘটনার পেছনে আফ্রিদির পুরোনো মন্তব্যও বড় ভূমিকা রেখেছে। কাশ্মীরের প্রসঙ্গে সামা টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আফ্রিদি বলেন, 'কাশ্মীরে একটি পটকাও ফাটলেই ভারত পাকিস্তানকে দায়ী করে। অথচ সেখানে তাদের আট লাখ সৈন্য মোতায়েন রয়েছে। তাহলে তাদের সেনাবাহিনী অকেজো, যারা নিজেদের মানুষকেই রক্ষা করতে পারে না।'
এই মন্তব্যের জবাবে এক্স (সাবেক টুইটার)-এ শিখর ধাওয়ান লেখেন, 'আমি ১১ মে-তেই জানিয়ে দিয়েছিলাম পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলব না। আমার অবস্থান একই রয়েছে। আমার দেশই আমার কাছে সবার আগে।' আফ্রিদির সমালোচনায় তিনি আরও লেখেন, 'কার্গিলেও তোমাদের হারিয়েছিলাম। এত নিচে নেমেছ, আর কত নামবে? ভারতীয় সেনাদের নিয়ে আমরা গর্বিত।'
পাল্টা জবাবে আফ্রিদিও এক্সে একটি ছবি পোস্ট করেন, যেখানে তিনি হাতে চায়ের কাপ নিয়ে দাঁড়িয়ে। ক্যাপশনে লেখেন, 'জয়-পরাজয় ভুলে যাও, আসো তোমাকে চা পরিবেশন করি।' যা ভারতের ক্রিকেট মহলে আরও ক্ষোভ সৃষ্টি করে।
প্রসঙ্গত, ১৮ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ‘ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অব লেজেন্ডস’-এ ভারতীয় দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন যুবরাজ সিং এবং পাকিস্তানের নেতৃত্বে আছেন মোহাম্মদ হাফিজ। কিন্তু আফ্রিদির উপস্থিতি ও রাজনৈতিক টানাপড়েন মিলিয়ে দুই দেশের খেলোয়াড়দের এক মাঠে দেখা আর সম্ভব হলো না।
এর আগে ভারত-পাকিস্তানের কিংবদন্তি ক্রিকেটারদের ম্যাচে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ও খুনসুটিই ছিল মূল আকর্ষণ। এবার রাজনৈতিক উত্তাপ ও ব্যক্তিগত মতবিরোধ সেই বন্ধনকে ছিন্ন করে দিলো।
Jo kadam 11 May ko liya, uspe aaj bhi waise hi khada hoon. Mera desh mere liye sab kuch hai, aur desh se badhkar kuch nahi hota.
Jai Hind!