চট্টগ্রাম কাস্টমস তিন লাইটারেজ ভর্তি মদ ও বিয়ারসহ অন্যান্য খাদ্য সামগ্রী আটক করেছে। গত মঙ্গলবার চট্টগ্রাম বন্দরের ৩ নম্বর জেটি এলাকায় এমভি কিউজি সান নামক পানামা পতাকাবাহী জাহাজ থেকে লাইটারেজ জাহাজে খালাসের সময় পণ্যসমূহ আটক করা হয়।
জানা যায়, চীন থেকে আসা বাল্ক কার্গোবাহী মাদার ভেসেলে বাংলাদেশ চায়না পাওয়ার কোম্পানি (প্রা) লিমিটেডের নামে আনা মেশিনারিজ স্পেয়ার পার্টসসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক পণ্য অপেক্ষাকৃত ছোট লাইটারেজ জাহাজে ভর্তি করার সময় ওই সকল আমদানি নিষিদ্ধ ও মিথ্যা ঘোষণার পণ্য পাওয়া যায়।
বাংলাদেশ চায়না পাওয়ার কোম্পানি পটুয়াখালীর পায়রা সমুদ্র বন্দর এলাকায় বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণ করছে। ওই প্রতিষ্ঠানের নামে ৮টি বিল অব এন্ট্রির বিপরীতে ১ হাজার ৪০৬ টন পণ্য আমদানি করা হয়।
সূত্রে জানা যায়, ওই ৮টি বিল অব এন্ট্রির বিপরীতে আমদানিকৃত পণ্যসমূহ প্রথমে দু’টি লাইটারেজ জাহাজে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে তৃতীয় লাইটারেজ জাহাজে উক্ত চালানের পণ্য কিছু ভর্তি করার পর অবৈধ ও মিথ্যা ঘোষণার পণ্য দেখা যায়। জানা যায়, বড় বড় কাঠের বক্সের একটির অংশ বিশেষ ভেঙ্গে একটি মদের বোতল বেরিয়ে এলে সকলে অবাক হয়ে যায়। এরপর পুরো খালাস প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়। ইতিমধ্যে উক্ত চালানের অধীনে যে দু’টি জাহাজ পণ্য ভর্তি করে সদরঘাট বাংলা বাজার এলাকায় অপেক্ষায় ছিল সেগুলোও আটক করা হয়।
জানা যায়, চীন থেকে আসা মাদার ভেসেলে (বড় জাহাজ) সর্বমোট ১১ হাজার ৫১১ মেট্রিক টন পণ্য সামগ্রী ছিল। জাহাজে ৪৬টি বিল অব এন্ট্রির বিপরীতে বিভিন্ন আমদানিকারকের উক্ত পরিমাণ পণ্য ছিল। জাহাজে সর্বমোট ৫ হাজার ৯১৬ প্যাকেজ ছিল। বাংলাদেশ চায়না পাওয়ার কোম্পানির ৮টি বিল অব এন্ট্রির বিপরীতে ৬৬৯টি প্যাকেজ ছিল। আটক তিনটি জাহাজে সর্বমোট ৬০০ প্যাকেজ তোলা হয়েছিল। বাকি ৬৯ প্যাকেজ মাদার ভেসেলে রয়ে গেছে। সেগুলোও মাদার ভেসেল থেকে সরাসরি কাস্টমস তার নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসবে বলে জানা গেছে।
চট্টগ্রাম কাস্টমসের পক্ষ থেকে গতকাল বুধবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে বাংলাদেশ চায়না পাওয়ার কোম্পানির নামে মিথ্যা ঘোষণায় আনা পণ্য আটকের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। চট্টগ্রাম কাস্টমসের কমিশনার মো. ফখরুল আলম জানান, ৮টি বিল অব এন্ট্রির অধীনে আনা পুরো পণ্যসমূহ যাচাই-বাছাই করে দেখা হবে। তবে আটক পণ্যসমূহের মধ্যে ইতিমধ্যে মদ, বিয়ারসহ খাদ্য পণ্য মাশরুম, নুডুলস পাওয়া গেছে। তবে খুব শিগগিরই পুরো পণ্যের তালিকা প্রস্তুত করে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে পত্র দেয়া হবে। তিনি বলেন, আটক মদ-বিয়ার আমদানির ক্ষেত্রে কতিপয় শর্ত রয়েছে। বিশেষ করে বন্ড এবং বিদেশী কূটনৈতিক চ্যানেলে মদ, বিয়ার আমদানি হয়ে থাকে। অন্যদিকে অন্যান্য খাদ্যপণ্য নির্দিষ্ট শুল্ক পরিশোধের মাধ্যমে আমদানি করা যায়। তবে এক্ষেত্রে ওই সকল পণ্য ঘোষণা বহির্ভূতভাবে আমদানি করা হয়েছে।
এদিকে জানা যায়, কাস্টমসের ৭৮ ধারা অনুযায়ী মাদার ভেসেল দ্রুত ছেড়ে যাওয়ার জন্য বাল্ক (খোলা) পণ্য সমূহ লাইটারেজ জাহাজে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিল অব এন্ট্রি দাখিলের মাধ্যমে শুল্কায়ন করে পণ্যসমূহ কাস্টমস থেকে অনুমতি নিয়ে খালাস নেয়া হয়।
গতকাল কাস্টমস কর্তৃক আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার আকবর হোসেনসহ ঊর্ধ্বতন কাস্টমস কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ চায়না পাওয়ার কোম্পানির নামে আমদানি করা পণ্যের স্থানীয় সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠান বিপাশা ইন্টারন্যাশনাল এবং লাইটারেজ জাহাজ এএমএমএস লজিস্টিকস দু’টি প্রতিষ্ঠানের মালিক হচ্ছেন শফিকুল আলম জুয়েল। জানা যায়, এর স্থানীয় শিপিং কোম্পানির মালিক হচ্ছেন শফিকুল আলম জুয়েলের বড় ভাই শাহ আলম বাবুল। তাদের সাথে যোগাযোগ করে পাওয়া যায়নি।